More

    মাগুরার চরপাচুড়িয়া বিলিন হচ্ছে মধুমতিতে

    মাগুরা প্রতিনিধি:

    মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের একটি গ্রাম চরপাচুড়িয়া। এখান থেকে উপজেলা শহরের দূরত্ব মাত্র চার কিলোমিটার।

    মধুমতি নদীর পাশ দিয়ে যাওয়া এই গ্রামের সড়কটির দুইশ’ গজ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাকি দুই কিলোমিটার রাস্তায় এক হাঁটু কাদা। প্রতিদিন নানা কাজে সারাদিনে চার-পাঁচবার উপজেলা শহরে সেখানকার বাসিন্দাদের সড়কে হাঁটু থেকে কোমরপানি ও দুই কিলোমিটার রাস্তায় কাদার পাহাড় মাড়িয়ে চলতে হয়।

    বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় চড়পাচুড়িয়া গ্রামের সাড়ে তিন হাজার লোক ও আশপাশের আরও তিন গ্রামের প্রায় দশ হাজার মানুষকে নিরুপায় হয়ে এই পথ দিয়ে চলতে হয়। এ পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার বা পাকা না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

    এই রাস্তা দিয়ে চর পাচুড়িয়াসহ ফরিদপুরের বোয়ালমারি উপজেলার চরনারানদিয়া, রায়পাশা ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। এলাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, মহম্মদপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত।

    এ গ্রামটির সীমানা নিয়ে প্রতিবেশী ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি উপজেলার সাথে বিরোধ ছিল। প্রায় দুই বছর আগে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। সীমানা বিরোধের কারণে এখানে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা যায়নি। প্রায় সাড়ে তিন হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত মধুমতি নদীপারের চরপাচুড়িয়া গ্রামটিতে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা নেই।

    স্থানীয় বাসিন্দা নান্নু মিয়া বলেন, ‘উপজেলা সদরে বাস করেও আমরা চরম অবহেলিত। শহরে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য। নানা কাজে উপজেলা শহরে যেতে হয় পানি ও কাদা মাড়িয়ে।

    তিনি জানান, তার মেয়ে কিছুদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সারারাত চেষ্টা করেও হাসপাতালে নিতে পারেননি। রাস্তা না থাকায় কোনো যানবাহন চলে না। ভোরে কয়েকজনের সহযোগিতায় ঘাড়ে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

    নূরুল ইসলাম বলেন, গ্রামে বিদ্যুৎ ছিল না। কয়েকটি অংশে বিদ্যুৎ এলেও রাস্তাঘাটের কোনো উন্নয়ন হয়নি। সাথে আছে মধুমতির ভাঙন।

    অরিন ও সুমি মহম্মদপুর উপজেলা সদরের একটি স্কুলের এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তারা জানায়, স্কুল, কলেজ, অফিস সব মহম্মদপুর উপজেলা সদরে। কোমরপানিতে কাপড় ভিজিয়ে যাতায়াত করতে হয়। গায়ের কাপড় গায়েই শুকাতে হয়।

    স্থানীয়রা জানান, রাস্তাঘাট নাই বলে এই গ্রামের কোনো ছেলে-মেয়ের বিয়ে হতে চায় না। বাইরের মানুষ এই গ্রামে কোনো আত্মীয়তা করতে চান না। আত্মীয়-স্বজনও খুব বিপদে না পড়লে বেড়াতে আসেন না।

    গৃহবধূ শিলা পারভিন বলেন, কিছুদিন আগে গ্রামে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস আসতে না পারায় ১০-১২টি ঘর আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে যায়।

    ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালক আমিনুর রহমান জানান, ‘এক লাখ টাকা দিয়ে ইজিবাইক কিনেছি। রাস্তা না থাকায় যাত্রী নেই। অনেকটা বেকার বসে আছি।’

    মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রামানন্দ পাল জানান, সদর ইউনিয়নের এক নম্বর মৌজায় চর পাচুড়িয়া গ্রাম অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে সীমানা বিরোধ থাকায় এখানে উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া যায়নি।

    এবার সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির পর এসএ রেকর্ড সম্পন্ন হয়েছে। এখন উন্নয়নে প্রকল্প নিতে আর বাধা নেই। চর পাচুড়িয়াবাসীর সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

    © এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
    / month
    placeholder text

    সর্বশেষ

    রাজনীাত

    বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য বিদেশে হাসপাতাল খোজা হচ্ছে

    প্রভাতী সংবাদ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন আবেদনে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক...

    আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

    আরো পড়ুন

    Leave a reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    spot_imgspot_img