More

    শর্তসাপেক্ষে ঈদগাহে পড়া যাবে ঈদুল আজহার নামাজ

    ঈদুল আজহায় ১২ নির্দেশনা জারি

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

    দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল আজহার জামাত ইচ্ছা করলে ঈদগাহে পড়া যাবে। এজন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে ১২ নির্দেশনা দিয়েছে।

    মসজিদ, ঈদগাহ কিংবা খোলা জায়গায় ঈদুল আজহার নামাজের আয়োজন করা যাবে। তবে সেটা নির্ধারণ করে দিবে স্থানীয় প্রশাসন । এজন্য জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

    আগামী ২১ জুলাই (বুধবার) দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ঈদুল আজহা মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব। মুসলমানরা ঈদুল আজহায় দু-রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করেন । এছাড়া পশু কুরবানী করা হয়।

    এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে চলমান বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত শপিংমল খোলা থাকবে, যানবাহন চলবে, পশুহাট বসবে।

    এই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) ঈদুল আজহার নামাজের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রানলয়। জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে তারা ঈদুল আজহার জন্য ১২ নির্দেশনা দিয়েছে।

    নির্দেশনায় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণ রোধে ঈদের জামাত শেষে কোলাকুলি করা যাবেনা। এছাড়া পরস্পর হাত মেলাতে নিষেধ করা হয়েছে।

    আগামী ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। এবিষয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    ঈদ শেষে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত আগের নিয়মে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে নতুন কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

    ঈদুল আজহার নামাজ জামাত আদায়ে্র জন্য ১২টি নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে।
    এতে বলা হয়, করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

    এ প্রেক্ষিতে দেশের বর্তমান কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে। সেজন্য শর্তসাপেক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের জামাত আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান হয়।

    ১২ নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে

     করোনাভাইরাসের স্থানীয় পরিস্থিতি ও মুসল্লিদের জীবন-ঝুঁকি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন জামাতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে। এক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা ও সমন্বয় করতে হবে।

    তারা মতামত দিলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ঈদুল আজহার জামাত হবে। এক্ষেত্রে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মসজিদ, ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় জামাতের আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

     মসজিদে ঈদের নামাজ আয়োজন করলে সেক্ষেত্রে ফ্লোরে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজ শুরু করার আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক স্প্রে করে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। মুসল্লিরা নামাজের জন্য বাড়ি থেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

     মসজিদ/ঈদগাহে নামাজের জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে আসতে হবে। ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

     নামাজের স্থান থেকে যাতে করোনাসংক্রমণ না হয় সেজন্য মসজিদ/ঈদগাহে ওজুর স্থানে সাবান, পানি ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। সেটা দিয়েই প্রত্যেক মুসল্লি হাত ধুয়ে নিবেন।

     যে রাস্তা দিয়ে মুসল্লিরা মসজিদ/ঈদগাহ মাঠের প্রবেশ করবে সেখানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেখানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/ সাবান ও পানি রাখতে হবে।

     সকলের জন্য সঠিক নিয়মে মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক। ঈদের নামাজের জামাতে আগত সকল মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে আসতে হবে। কোন অবস্থাতেই কেও মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করতে পারবেনা।

     ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ দুরত্বে দাঁড়াতে হবে ।কাতার বানানোর সময় এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে। অর্থাৎ একটি কাতারের জায়গা ফাঁকা রেখে আরেকটি কাতার করতে হবে।

     নির্দেশনায় শিশু, বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং যারা অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত আছে সেসব ব্যক্তিদের ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

     প্রত্যেক মুসল্লিকে অবশ্যই সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

     করোনা সংক্রমণ রোধে ঈদের জামাত শেষে কোলাকুলি করা যাবেনা। এছাড়া পরস্পর হাত মেলাতে নিষেধ করা হয়েছে।

     করোনা মহামারির এ বৈশ্বিক মহাবিপদ হতে রক্ষা পেতে বেশি বেশি তওবা, আস্তাগফিরুল্লাহ ও কুরআন তিলাওয়াত করার কথা বলা হয়েছে। নিজেদের কৃতকর্ম, অন্যায়-অপরাধের জন্য ঈদের নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে ক্ষমাপ্রার্থনা করার কথা বলা হয়েছে।

     প্রত্যেক মুসল্লিকে খতিব, ইমাম, মসজিদ/ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

    নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


    বিজ্ঞপ্তিতে, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত সকল নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে ।

    © এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
    / month
    placeholder text

    সর্বশেষ

    রাজনীাত

    বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য বিদেশে হাসপাতাল খোজা হচ্ছে

    প্রভাতী সংবাদ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন আবেদনে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক...

    আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

    আরো পড়ুন

    Leave a reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    spot_imgspot_img