More

    ২১ জুলাই ঈদ: এবারও মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি

    ইসমাইল গাজী সৌরভ, ঢাকা:

    দেশের আকাশে দেখা মিললো জিলহজ মাসের চাঁদ। অর্থাৎ ২১ জুলাই দেশে উদযাপিত হবে মুসলিমদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা।

    ইসলামী ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমীন বলেন, ‘রবিবার সন্ধ্যায় দেশে চাঁদ দেখা গেছে। রাজবাড়ী, নড়াইল ও ঝালকাঠি জেলায় এ চাঁদ দেখা যায়।’

    এর ফলে সোমবার শুরু হচ্ছে জিলহজ মাস গণনা। গণমাধ্যমকে পাঠানো ইসলামী ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ২১ জুলাই বুধবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছে ইসলামী ফাউন্ডেশন।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রবিবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির পূর্বনির্ধারিত সভা বসে। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান এমপি।

    সভায় এসময় ধর্ম-সচিব নূরুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন মহাপরিচালক মুশফিকুর রহমান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন ।

    এছাড়াও ছিলেন অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা শাহেনুর মিয়া, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের উপসচিব রায়হান কাউসার, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের পিএসও আবু মোহাম্মদ, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আসাদুর রহমান।

    আরও উপস্থিত ছিলেন আলিয়া মাদ্রাসা’র অধ্যক্ষ আলমগীর রহমান, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের পেশ ইমাম মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, লালবাগ শাহী মসজিদের খতিব মোহাম্মাদ নেয়ামতুল্লা ও চকবাজার জামে মসজিদের খতিব মোহাম্মাদ নাঈম রেজওয়ান।

    ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতির কারণে এবার ঈদেও থাকবে বিধি-নিষেধ। গত ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহার জামাতও পড়তে হবে মসজিদে।

    গত তিনটি ঈদ দেশের মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নানা বিধি-নিষেধের মাধ্যমে পালিত হবে। সেক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ পড়তে হবে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে। করা যাবে না কোলাকুলি।

    আরবি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বছরের শেষ মাস জিলহজ। এই জিলহজ মাসে মুসলমানেরা পবিত্র মক্কায় হজ করতে যান। জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১০ তারিখে হজ অনুষ্ঠিত হয় আর ১০ তারিখে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা অনুষ্ঠিত হয়। এই ঈদে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পশু কোরবানি দেন মুসলমানেরা।

    এদিকে করোনাভাইরাসের বর্তমান সময়ের এ উর্দ্ধগতির মধ্যেও ঈদ বিবেচনায় চলমান লকডাউনের কিছু বিধি-নিষেধ শিথিল করতে পারে সরকার। তবে কিছু বিধি-নিষেধ শিথিল করলেও গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

    সরকারের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, ঈদুল আজহা আর পশুর হাটের ব্যবসা-বাণিজ্য এর বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিধিনিষেধ শিথিল করার পরিকল্পনা চলছে।

    এ নিয়ে সোম বা মঙ্গলবার আসতে পারে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন।

    গত ১ জুলাই থেকে চলমান লকডাউনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। রিকশা ছাড়া বন্ধ সব ধরনের গণপরিবহন, বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে এ লকডাউন।

    ১৪ জুলাই চলমান লকডাউন শেষ হলেও আরও এক দফা বাড়তে যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে সরকারের নানা মাধ্যম থেকে। করোনা সংক্রমণের উর্দ্ধগতি রুখতে সেজন্য এবার ঈদও লকডাউনের মধ্যে হতে যাচ্ছে এটাও অনেকটা নিশ্চিত।

    গত তিনটি ঈদ দেশের মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নানা বিধি-নিষেধের মাধ্যমে পালন করেছে। এবার তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না বলেই সরকারি মহল থেকে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

    চলমান লকডাউনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাথে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মাঠে আছে বিজিবি ও সেনাবাহিনী।

    সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য খোলা জায়গায় বিক্রির অনুমতি রয়েছে। তবে বন্ধ রয়েছে শপিংমল, মার্কেটসহ সব দোকানপাট। বন্ধ রয়েছে পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।

    গত রোজার ঈদে ফেরিঘাটে ঘরমুখী মানুষের ভিড় সামাল দিতে বেশ হিমশিম খেয়েছিল সরকার। বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বাড়িমুখী হয়েছিলেন লাখ লাখ মানুষ। সেসময় ১২ মে মাদারীপুরের বাংলাবাজারে দুটি ফেরি থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে পিষ্ট হয়ে পাঁচজনের মৃত্যুও হয়েছিল। ওই ঘটনায় পদদলিত হয়ে আহত হয় অর্ধশতাধিক।

    এছাড়া ঈদের সময় জনসাধারণের স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ায় কমিউনিটি সংক্রমণও বৃদ্ধি পায়।

    © এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
    / month
    placeholder text

    সর্বশেষ

    রাজনীাত

    বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য বিদেশে হাসপাতাল খোজা হচ্ছে

    প্রভাতী সংবাদ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন আবেদনে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক...

    আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

    আরো পড়ুন

    Leave a reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    spot_imgspot_img