More

    দখলকৃত মোহাম্মাদপুর মাদ্রাসা থেকে স্বপরিবারে বিতারিত মামুনুল হক

    নিজের অনুসারী শিক্ষক এবং ছাত্রদেরকে নিয়ে সকালেই মাদ্রাসাটি ছেড়ে চলে যান মুহতামিম মাহফুজুল হক। যাওয়ার সময়ে মাদ্রাসার প্রধান ফটকে তালা দিয়ে যান। মাদ্রাসার চাবি সরকার স্বীকৃত ইসলামি শিক্ষা বোর্ড আল হাইয়্যাতুল উলয়ার (বেফাক) চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসানের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে জানান মাহফুজুল।

    নিজস্ব প্রতিবেদক

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার কর্তৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো আলোচিত হেফাজত নেতা মামুনুল হক ও তার বড় ভাই মাহফুজুল হককে। মাদ্রাসাটিতে অভিযান চালানোর পর এর সমস্ত দায়দায়িত্ব ওয়াকফ এস্টেটকে বুঝিয়ে দিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক।

    মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সোমবার বিকেল ৪টার দিকে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আওয়াল।

    আজ দুপুরে মাহফুজুল হক ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে যাওয়ার পরে মাদ্রাসাটিকে অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করতে যায় ঢাকা জেলা প্রশাসন।

    দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাদ্রাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘জামি’আ আরাবিয়া মাদ্রাসাটির সামনে আমরা এখন দাঁড়িয়ে আছি। এটা একটা মসজিদ ও ওয়াকফ এস্টেট।

    এই ওয়াকফ এস্টেটে আগে বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছিল। কোর্টে বিভিন্ন ধারায় মামলা চলমান ছিল। মামলা চলমান থাকার ফলে একটি পক্ষ এটাকে দখল করে রেখেছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এই মাসে আমরা ওয়াকফ প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে নির্দেশ পাই যে, এখানে যারা অবৈধ দখলদার আছে তাদের উচ্ছেদ করে মাদ্রাসাটি নির্বাচিত হওয়া বৈধ কমিটির কাছে দখল হস্তান্তর করার। সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা এখানে এসেছি।’

    ‘আমাদের এখানে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বশীল লোকজন আছেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকেরাও এখানে আছেন। তাদের সহযোগিতায় নতুন যে কমিটি ওয়াকফ এস্টেট থেকে গঠন করা হয়েছে তাদের কাছে আমরা মসজিদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছি।’

    আব্দুল আওয়াল আরো জানান, মাদ্রাসাটির জন্য ওয়াকফ প্রশাসনের গড়ে দেয়া নতুন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে আব্দুর রহিমকে।

    তিনি বলেন, ‘ওয়াকফ এস্টেট প্রশাসন কর্তৃক ওই কমিটি গঠিত হয়েছে। তাই, আমরা তার কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছি।’

    মাদ্রাসায় অভিযান চালানোর সময় কোনো বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন কি না এই প্রশ্নের জবাবে ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘অভিযান পরিচালনা করতে আমরা কোনো বাঁধার মুখে পড়িনি।

    ‘তবে প্রথমে আমরা যখন এখানে এসেছি, তখন দেখলাম এখানে তালা মারা আছে। ভেতরেও কোনো লোকজন পাইনি। যেহেতু সব জায়গায় তালা মারা ছিল তাই দখল ও হস্তান্তরের স্বার্থে তালা ভেঙে ফেলে আমরা মাদ্রাসাটিকে দখলমুক্ত করেছি। তারপরে, আমরা দায়িত্ব হস্তান্তর করেছি।’

    মাদ্রাসার দখলের আগে যারা ছিলেন তার অধ্যক্ষ মাওলানা মাগফুল হক বেফাকের সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসানের কাছে এ মাদ্রাসার দায়িত্ব হস্তান্তর করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

    এ বিষয়ে কিছু জানেন কি না, এমন প্রশ্নে জেলা।প্রশাসক বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে, আমরা বাইরে একটা নোটিশ দেখেছিলাম, যাতে কারও স্বাক্ষরও ছিলো না।’

    নিজের অনুসারী শিক্ষক এবং ছাত্রদেরকে নিয়ে সকালেই মাদ্রাসাটি ছেড়ে চলে যান মুহতামিম মাহফুজুল হক। যাওয়ার সময়ে মাদ্রাসার প্রধান ফটকে তালা দিয়ে যান।

    মাদ্রাসার চাবি সরকার স্বীকৃত ইসলামি শিক্ষা বোর্ড আল হাইয়্যাতুল উলয়ার (বেফাক) চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসানের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে জানান মাহফুজুল।

    তখন তিনি বলেন, ‘মাহমুদুল হাসান সাহেব অন্যান্য শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি কল্যাণকর এবং সুন্দর একটা সমাধান আমাদেরকে এনে দেবেন বলে আশা করি।’

    মাহফুজুল হকের সঙ্গে অন্য শিক্ষকদেরও মাদ্রাসা ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে জামিয়া রহমানিয়ার শিক্ষক মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা আমাদের অধ্যক্ষের অধীনে সেখানে থাকি। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে উনাকে জিজ্ঞেস করুন।’

    জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসার আরেক শিক্ষক মাওলানা আনিসুর রহমান বলেন, ‘মাদ্রাসার চাবি হস্তান্তর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাহলে তো সবাইকে বের হতে হবে। না হলে তালা মারবে কীভাবে। তাহলে কি শিক্ষকরা ভেতরে আটকা থাকবে?’

    এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে মাদ্রাসা থেকে ফেসবুক লাইভে আসেন মাহফুজুল হক। মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিভিন্নভাবে কথা আসছে, আমাদের এ প্রতিষ্ঠান ছাড়তে হবে। এ ভবন আমাদের ছাড়তে হবে।

    আমরা গত কয়েকদিন ধরেই খেয়াল করছিলাম। আমাদের কাছে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কোনো নোটিশ আসেনি। আমাদের দেশের শীর্ষ আলেমরাও এ বিষয়টি নিয়ে কোনো পরামর্শও করছেন না।’

    পুলিশের কাছে গ্রেফতার হওয়া মামুনুল হক নিজেও এই মাদ্রাসার শিক্ষক। নেতৃত্বে পরিবর্তন আসলেও মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হক বাদ দেয়া হচ্ছে কি না, সেটি নিশ্চিত করেননি মাহফুজুল হক।

    © এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
    / month
    placeholder text

    সর্বশেষ

    রাজনীাত

    বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য বিদেশে হাসপাতাল খোজা হচ্ছে

    প্রভাতী সংবাদ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন আবেদনে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক...

    আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

    আরো পড়ুন

    Leave a reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    spot_imgspot_img