More

    আমার মা… (১ম পর্ব)

    আসমা সুলতানা, শাওন:

    একটা সময় ছিল নিজের জন্মদিনে আমি বিব্রত হতাম। মনে মনে লজ্জায় কুঁকড়ে যেতাম আর মনে মনে ভাবতাম আমার জন্ম দিন যেন আর কোন দিনও না আসে।

    এইবার আসি বিশদ বিবরনে। আসলে আমার” মা’ আমার জন্মদিন ঘটা করে আয়োজন করতেন। পাড়া প্রতিবেশি ডেকে আমার জন্মদিনটা বিশালভাবে পালন করতেন।

    একজন কলেজ পড়ুয়া মেয়ের জন্য এটা বিব্রতকর নয় কি? তাই মনে মনে চাইতাম আমার জন্মদিন যেন কোন দিন না আসে।

    আমার জন্ম দিনের সেই দাওয়াতে আশেপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন কাঁচের বাটিসেট, কাচের গ্লাসসেট, ফুলদানি নিয়ে আমার জন্মদিন খেতে আসতেন ( তখন এটাই রেওয়াজ ছিল)।

    আমার কি যে অস্বস্তি হতো তখন। আম্মা আমাকে শাড়ি পড়াতেন, মাথায় ফুল গুজাতেন। কেক কাটার সময় ছোট-বড়, বয়স্ক, মাঝামাঝি বয়সের সবাই হ্যাপি বার্থডে গান করতেন ( হরবল!)।

    একবার চিন্তা করেন কলেজ পড়ুয়া একটা মেয়ের জন্য সেই দৃশ্য কতটা বিব্রতকর।

    লজ্জায় আমি কুঁকড়ে যেতাম। কিন্তু আমার মা আমার সেই লজ্জাকে পাত্তা দিতেন না। বহু বছর পর এখন আমার ইচ্ছে করে আমি যেন সেই লজ্জামাখা দিনে ফিরে যায়।

    এই যে আম্মা ঘটা করে আমার জন্মদিন পালন করতেন তার একটা যৌক্তি দাঁড় করিয়েছি আমি এখন।

    আসলে আমাদের কৈশোর কেটেছে একদম অজপাড়াগাঁয়ে, যেখানে বিদ্যুতবাতিও ছিলনা। তখন সেখানে কেক পাওয়া যেতনা। আম্মা মাটির চুলায় রান্না শেষ হওয়ার পর পুডিং বসাতেন।

    সেই পুডিংয়ের উপর মোমবাতি জ্বালিয়ে আমার জন্মদিন পালন করতেন। বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার আর ভেতরে মোমবাতির আলো একটা মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি হতো।

    আমার কলেজ জীবন থেকে আমরা পুরোপুরি ঢাকা কেন্দ্রীক। মফস্বলে থাকলেও আম্মা অনেক আধুনিক ছিলন। জীবনের অনেকটা সময় পাকিস্তান ছিলেন।

    আম্মার মনের সেই শখ, সেই অপূর্ণতা বুঝি আম্মা শহুরে জীবনে এসে পূরণ করতে চাইতেন। কিন্তু আম্মা ভুলে যেতেন আমি সেই ছোট্ট মেয়েটি নয়, আমি ষোড়শী কিংবা অষ্টাদশী এক মেয়ে।

    আসলে মায়ের কাছে তার সন্তান বুঝি সব সময় ছোট-ই থাকে। তাছাড়া আগের দিন রাতে আম্মা সব সময় সারপ্রাইজ রাখতেন। ফুল, পেষ্ট্রী,গিফট কিনে এনে পাশের বাসায় লুকিয়ে রাখতেন। রাত ১২ টায় সারপ্রাইজ দিতেন।

    ১২.৮.২০০১, সেইবারও আম্মা আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশী ডেকে আমার জন্মদিন করেন এবং সেই রাত থেকেই আম্মার প্রচন্ড জ্বর। তের তারিখ সারাদিনই আম্মার জ্বর। নাপা/ প্যারাসিটামলে কাজ হচ্ছেনা। প্রথমে ভেবেছি এই গরমে মধ্যে রান্না করার কারনে হয়তো জ্বর এসেছে।

    চৌদ্দ তারিখ বিকেলে আম্মাকে নিয়ে গেলাম কিডনি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ শহীদুল জামান সেলিম সাহেবের কাছে।তিনি প্রাথমিক কিছু পরীক্ষা ও সেই সাথে বুকের এক্সরে করতে দিলেন।

    দুইদিন পর রিপোর্ট নিয়ে দেখা করতে গেলে উনাকে খুব চিন্তাত দেখলাম। সাতদিনের জন্য এ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে আবার সাতদিন পর দেখা করতে বললেন।

    সাতদিন পর যখন আবার গেলাম উনার কপালে চিন্তার রেখা দেখা গেল। এবং সেই সাথে উনি বুকের সিটিস্ক্যান করতে দিলেন।

    সিটিস্ক্যানের সেই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের আদরে যতনে গড়া পৃথিবী অন্ধকারে ছেয়ে যায়, নেমে আসে ঘোর অমবস্যা।

    ১২.৮ ২০০১, আমার জন্মদিনে আম্মার হাতের শেষ রান্না। সেইবারেই শেষ তারপর আর কোন দিন আম্মা আমাদের জন্য রাননা করতে পারেনি যতদিন বেচেঁ ছিলেন।

    লিখাটা বড় হয়ে যাচ্ছে আপনারা আগ্রহী হলে আবার লিখবো আম্মাকে নিয়ে আমাদের জীবনের শেষ জার্নি।

    সদ্য কৈশোর পার হওয়া একটা মেয়ের জীবন কিভাবে বদলে যায় মার অসুখ হলে আমার জীবনের সেই জার্নিটা আরেক দিন শুনাবো আপনাদের।

    © এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
    / month
    placeholder text

    সর্বশেষ

    রাজনীাত

    বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য বিদেশে হাসপাতাল খোজা হচ্ছে

    প্রভাতী সংবাদ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন আবেদনে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক...

    আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

    আরো পড়ুন

    Leave a reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    spot_imgspot_img