More

    খেলার সাথী…

    ফারজানা রহমান, এ্যানি:

    গলির মোড়ে কে যেন ছুটে এসে পিছন থেকে হাতটা টেনে ধরলো। যাক বাবা তোমাকে এতদিন পর খুঁজে পেলাম। শায়লা এতটা অবাক হলো যে একদম বোবা হয়ে গেছে। একমাথা চুল নিয়ে হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে ওর বয়সী এক কিশোর।

    সদ্য যৌবনে পা দিলেও চোখের পাতায় সরলতার ছবি ফুটে উঠেছে। কলেজে ভর্তি হতে শায়লা তার শহর ছেড়ে এই নতুন শহরে এসেছে। কলেজে দুই একজন নতুন বন্ধু হলেও এই ছেলেকে কখনো দেখেছে বলে মনে করতে পারছে না।

    শায়লার এই অবাক হয়ে যাওয়া আপন কে আরো ছেলে মানুষী পেয়ে বসলো। জোর করে ওর হাত ধরে টানতে থাকলো। একটাই কথা মা তোমাকে ধরে নিয়ে যেতে বলেছে। পাড়ার লোকজন ওদের দিকে তাকিয়ে আছে ঠিকই তবে তেমন গা করছে না। মনে হলো সবাই ছেলেটিকে চেনে!

    শায়লা নতুন এসেছে এখানে। এই পাড়ায় আসা এক সপ্তাহের বেশি হয়নি। তেমন ভাবে কারো সাথে পরিচয় হয়নি। কারো কাছে সাহায্য চাইবে কিনা ভাবতেও পারছে না।

    এর মধ্যে ছেলেটি একটি বাসার গেট খুলতে খুলতে হাক ডাক শুরু করলো মা আমি যে সত্যি সেদিন টুনটুনি পাখি কে দেখেছিলাম এই ধর তার প্রমাণ।

    টুনটুনি পাখি শব্দ কানে যেতেই ওর ছোট বেলার খেলার সাথী আপনকে চিনতে আর একটুও দেরি হলো না। সেই কবে বাবার বদলির সুবাধে ওদের ছাড়াছাড়ি। তারপর মাঝে কেটে গেছে বেশ কয়েকটি বছর ।

    তারপরও মনের মধ্যে রয়ে গেছে সেই খেলার সাথীর ছবিটা। শুনেছিল আপন এই শহরেই থাকে। মা গল্পের ছলে বলেছিল ওকে। তবে শায়লা যে পাড়ায় থাকবে সেখানেই যে আপন কে পেয়ে যাবে ও তা কখনো ভাবেনি।

    চাচীআম্মা ওকে দেখে জড়িয়ে ধরলেন। তারপর একের পর প্রশ্ন। কতবড় হয়ে গেছিস রে মা? ঐ পাগলটা সেদিন যখন বললো তোকে দেখেছে পাড়ার মোড়ে রিক্সা করে যেতে ,আমি বিশ্বাস করিনি।

    বলেছি এত বছর পর কিভাবে চিনতে পারলি? ও কি বলে জানিস, জানো মা টুনটুনি পাখি এখনো তেমনি আছে ঠিক ছোট বেলার মত চুলগুলো এখনো সেই অগোছালো থাকে। একটুও বদলায়নি মা। তাছাড়া তুমি এটা কি বললে মা ,আমি আমার টুনটুনি পাখি কে চিনতে পারবো না? তাই কখনো হয়?

    এখনতো দেখছি পাগলটা সত্যি তো তোকে ঠিকই চিনতে পেরেছিল। অনেক কথা হলো। চাচীআম্মা আসার সময় বারবার বলে দিলেন কোন দরকার হলে চলে আসবি। আর একা একা কোথাও যেতে হলে আপনকে সাথে নিয়ে যাবি।

    আমরা এখানে অনেক দিন ধরে আছি । আমাদের সাথে সম্পর্ক আছে দেখলে পাড়ার ছেলেরা তোকে জ্বালাবে না। এমনিতে যারা এরকম পড়াশোনা করতে এখানে মেসে থাকে যে সব মেয়েরা জ্বালাতন করে ওরা শুধু শুধু।

    নতুন শহরে এসে কত প্রয়োজনে শায়লা কে বাহিরে যেতে হয় । আপন ছায়াসঙ্গী হয়ে গেল শায়লার। আপন এক প্রকার হাত ধরে নতুন শহরটার সাথে পরিচিত করলো শায়লাকে।

    মা-বাবা ছাড়া শায়লার শহরটা যতটা খারাপ লাগার কথা তা আপনরা থাকাতে অন্য রকম হয়ে গেল। শায়লার পরিবারের কাছে ও অনেক ভরসার কারণ হলো আপন। মেয়েকে দেখাশোনা জন্য এমন অভিভাবক পেলে কে না নিশ্চিত হয় !

    দেখতে দেখতে কিভাবে দুটো বছর পার হয়ে গেছে তা বুঝতে পারলো শায়লা যখন কলেজের পাঠ চুকিয়ে ওকে ওর শহরে ফিরে যেতে হলো।

    শায়লার কাছে নিজের শহরে বড় একা মনে হতে লাগলো আপনকে ছাড়া। আপন কখন এতটা ওকে দখল করে নিয়েছে ও বুঝতে পারেনি আগে । কিভাবে ওর সময় আপন ছাড়া কাটবে ?

    আপন শায়লা চলে যাওয়ার পর থেকে একদম চুপ চাপ হয়ে গেছে। এত শান্ত ওকে কেউ কখনো দেখেনি! মা সেই ছোট বেলা থেকে দেখে আসছে আপন শায়লা কে কতটা পছন্দ করে।

    ছোট বেলায় ছেড়ে আসার পর সব সময় ও ওর টুনটুনি পাখির অপেক্ষায় থাকতো। প্রথম যেদিন আবার আপন ওর টুনটুনি পাখিকে খুঁজে পেয়েছিল ওর আকাশ আলোয় আলোয় ভরে উঠেছিল। শুধু মাত্র শায়লার কারণে ওর পরীক্ষা খুব ভাল হয়েছে।

    আপন কেন এমন করছে মা তা বুঝতে পেরে ওকে বলেছিল ,তেমন তো হাতে কোন কাজ নেই ঘুরে আয় আসেপাশে থেকে। আবার ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

    আপন অনেক সাহস করে মাকে বলেছে আমি কয়েকটা দিন তাহলে টুনটুনি পাখিদের ওখানে বেড়িয়ে আসি মা ,কি বলো? ছেলের মুখে এই কথা শুনে মা হেসে ফেলে বললেন, তাই যা।

    মা তো চাই তার ছেলেটা এভাবেই হেসে খেলে জীবন টা কাটিয়ে দিক।

    লেখক: কবি, কথা সাহিত্যিক ও উন্নয়ন কর্মী

    © এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
    / month
    placeholder text

    সর্বশেষ

    রাজনীাত

    বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য বিদেশে হাসপাতাল খোজা হচ্ছে

    প্রভাতী সংবাদ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন আবেদনে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক...

    আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

    আরো পড়ুন

    Leave a reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    spot_imgspot_img