More

    লোক দেখানো ধর্মচর্চার সাথে ধর্মীয় নীতিবোধের বিপরীত কর্মের সাংঘর্ষিক যুদ্ধের ফল দূর্নীতিঃ

    সাইফুল আলম বাপ্পি:

    কার্ল মার্কস সমাজের নিপীড়িত শোষিত মানুষের জন্য ধর্মকে আফিমের নেশা হিসেবে তুলনা করেছিলেন।

    তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, শোষিত নিপীড়িত জনগন দুনিয়ায় সকল অন্যায়ের বিচারের ভার সৃষ্টিকর্তার উপর ছেড়ে দিয়ে ধর্মের বিশ্বাসে বু্ঁদ হয়ে থাকে।

    আসলে তাদের আর কিছু করারও থাকেনা। শোসক শ্রেনীর শক্তিমত্তার সামনে একমাত্র ধর্মকে ব্যবহার করেই নিজেদের সকল যন্ত্রণাকে পরকালের সুবিচারের আশায় নিমজ্জিত করা। আফিম সেবনে ঠিক যেমন সাময়িক প্রশান্তি।

    আমাদের সমাজে এখন চলছে সেই আফিমের রমরমা ব্যবহার। যে যেভাবে পারছে রন্ধ্রে রন্ধ্রে আফিমে আসক্ত হচ্ছে। কয়েকটি বিষয় পর্যালোচনা করলেই বিষয়টা পরিস্কার হয়ে যাবে।

    ০১. বাংলাদেশ থেকে হজ্জ্বে যাওয়া হাজিদের সংখ্যা যে হারে বেড়েছে ঠিক তার চেয়ে অধিক হারে দূর্নীতি বেড়েছে।

    ০২. দেশের আনাচে কানাচে যে হারে মসজিদ নির্মান হয়েছে, তারচেয়েও বেশী মাত্রায় দেশের আনাচে কানাচে দূর্নীতির ছোঁয়া লেগেছে।

    ০৩. এখন বাংলাদেশের নারীদের বেশীরভাগই বোরকা বা হিজাব ব্যবহার করে। আর এখনই ধর্ষণের ঘটনা সবচেয়ে বেশী ঘটছে।

    ০৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের বা কলেজের শিক্ষকদের রাজনৈতিক পরিচয়ে যে পরিমান সমালোচনা হয় কিন্তু সকল মাদ্রাসার শিক্ষকরা ধর্মের দোহায় দিয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছে।

    ০৫. সাধারন শিক্ষায় ছাত্ররাজনীতিকে নেতিবাচক দেখা হচ্ছে অথচ মাদ্রাসার ছাত্ররা ধর্মের আবরণে রাজনীতি করছে।

    ০৬. অফিস আদালতে একসময় লাঞ্চ ব্রেক ছিলো, এখন নামাজের বিরতি হয়। অফিস আদালতে নামাজের জন্য পৃথক স্থানের ব্যবস্থাও হয়েছে এবং অফিসগুলোতে দূর্নীতির মাত্রাও বহুগুণ বেড়েছে।

    ছবি: সংগৃহিত

    ০৭. একসময় দাড়ি রাখলে তাকে বুজুর্গ মনে করে সবাই সম্মান করতো। আজকাল দাড়ির সাথে সাথে টুপির ব্যবহার যেমন বাড়ছে তেমনে দূর্নীতিবাজের সংখ্যাও বহুগুণ বাড়ছে।

    ০৮. একসময় তুরাগতীরে বছরে একবার ইজতেমা হলেই হতো। এখন ভাগে ভাগে করতে হয়। জেলায় জেলায় জোড় ইজতেমাও করতে হয় কিন্তু দূর্নীতির মাত্রাও এখন তাল মিলিয়ে বেড়ে চলেছে। একেবারে দূর্নীতির বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে।

    ০৯. ঢাকেশ্বরী, রমনা কালী মন্দির কিংবা সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির সব খানেই এতোটা জৌলুসভরা পূজা দেখা যেতো না। আজকাল পূজামণ্ডপ গুলোতে জৌলুস থাকে চোখ ধাধানো। ঠিক তেমনি এখনকার দূর্নীতির জৌলুসও চোখ ধাধানো।

    ১০. আগে ছোট্ট পরিসরে কঠিন চিবর দান অনুষ্ঠান হতো, এখন তার পরিধি এবং চাকচিক্যের মাত্রা স্মরনীয় অতীতের তুলনায় অনেক বেশী। দূর্নীতিও বেড়েছে একই ভাবে।

    ১১. এখন এলাকার জনপ্রতিনিধিদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এবং প্রতিষ্ঠান গুলোতে যতো বেশী মনোযোগী হতে দেখা যায়, ততো বেশী তাদের খরচের মাত্রাও বাড়তে দেখা যায়। কেউ জানতেও চায় না তার আয় কিভাবে হচ্ছে এবং এতো টাকা সে কোথায় পায়।

    এভাবে প্রতিটি ধর্মের আয়োজন বেড়েছে, বেড়েছে ধর্ম চর্চার হারও। ধর্মীয় বিধিনিষেধ মেনে চলা মোটেও বাড়েনি।

    যে হারে ধার্মিক বেড়েছে তারচেয়েও বেশী হারে দূর্নীতিবাজ বেড়েছে। তাহলে কি এটা প্রতীয়মান হয়না যে, ধর্ম পালনের আবরণে কিংবা ধর্মকে ব্যবহার করে সকল অনৈতিক কর্মকান্ড জায়েজ করা হচ্ছে?

    খোলা চোখে দেখলে, একেবারে সহজ করে ভাবলেও তো পরিস্কার বোঝার কথা। যেহেতু ধর্ম আমাদের নীতি নৈতিকতা শেখায়, তাহলে ধর্মপালনকারীর সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে নীতিবান জাতি গড়ে ওঠার কথা।

    আসলে ধর্মকে আফিমের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। সবাই শুধু বুঁদ হয়ে আছে নেশায়। চোখ অন্ধ, কানে শোনেনা এবং বোবা হয়ে নেশায় মগ্ন। হয় যেনে শুনে লেবাস ধারণ নাহয় নেশায় মগ্ন। এর বাইরে কিছুনা।

    দূর্নীতির বিষ গাছ উপড়ে ফেলতে সবার আগে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। চোখ খুলতে হবে, সত্যি মিথ্যা যাচাই করে বলা শিখতে হবে।

    ধর্ম পালন করুন তবে তাকে সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখুন।ধর্মীয় আদেশ পালন করুন নিজের জীবনে। লোক দেখানো ধর্মপালনের চেয়ে ধর্ম পালন না করাই উত্তম।

    আপনার ধর্মীয় আচার আচরণ যদি সমাজে কোনো প্রভাব বিস্তারই করতে না পারে, তাহলে এগুলো নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না। বাংলাদেশের সমাজ তার জ্বলন্ত প্রমান।

    ধর্মের চর্চা যতো বাড়ছে সমাজের দূর্নীতির মাত্রাও ততো বাড়ছে। সত্যিকারের ধার্মিকের সংখ্যা মোটেও বাড়েনি।

    হালের হেফাজত ইসলামের নেতৃবৃন্দের কর্মকাণ্ড জাতির সামনের চোখ খুলে দিয়েছে। ধর্মের নামে এরা রাজনীতি করতো।

    ঠিক তেমনি ভাবে দেশের আনাচে কানাচে এমন বহু ধর্মচচাকারী আছে যারা ধর্মচর্চাকে তাদের দূর্নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

    তাই সময় এসেছে, সামাজিক নীতিবোধগুলোকে সামনে এনে এসব ধর্মীয় লেবাসধারী মানুষগুলোকে উন্মোচিত করতে হবে।

    ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে না পারলে দূর্নীতি থেকে দেশ ও জাতির মুক্তি মিলবেনা।

    লেখক: এক্টিভিস্ট

    বি:দ্র: মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত কলামের দায়-দ্বায়িত্ব লেখকের। প্রভাতী সংবাদ কর্তৃপক্ষ কোন দায় বহন করবে না।

    © এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
    / month
    placeholder text

    সর্বশেষ

    রাজনীাত

    বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য বিদেশে হাসপাতাল খোজা হচ্ছে

    প্রভাতী সংবাদ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন আবেদনে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক...

    আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

    আরো পড়ুন

    Leave a reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    spot_imgspot_img