More

    বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: লড়াইয়ের ৪০ বছর

    সায়মন জিয়ন

    ১৭ই মে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত চরম বিভীষিকাময় নির্বাসিত জীবন যাপন শেষ করে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে বাংলাদেশে আসেন শেখ হাসিনা।

    সোনার বাংলা গড়ায় বাংলাদেশ যখন একটু একটু করে বিশ্বব্যাপি পরিচিতি লাভ করছিলো ঠিক তখনই খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে একদল বিপথগামী,ঘাতক এবং ষড়যন্ত্রকারী কুচক্রমহল সপরিবারে হত্যা করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে।

    হয়তো পরমকরুনাময়ের ইচ্ছাতেই সেদিন বাংলাদেশে ছিলেন না মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ঘাতকেরা চেয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর পরিবার থেকে আর কোনোদিন কোনো নেতৃত্ব আসবেনা! এজন্যই হয়তো শিশু শেখ রাসেলের বুকে গুলি চালাতেও ওদের হাত কাঁপেনি!

    বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে বসে শেখ হাসিনা নিজের পিতার মৃত্যুর খবর পান।বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে যেনো হঠাৎ শেখ হাসিনার চারপাশের সকল মানুষ তাঁদের আসলরুপ প্রকাশ করতে শুরু করেন।

    শুরুতেই বেলজিয়ামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সানাউল হক, যে মুহূর্তে মি. হক শুনলেন যে সেনা বিদ্রোহে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হয়েছেন, তখনই তাঁর দুই কন্যা এবং জামাতাকে কোনও রকম সাহায্য করতে অস্বীকার করলেন। নিজের ঘর থেকেও তাঁদের চলে যেতে বলেন মি. হক।
    বাংলাদেশেও তাঁদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে দেয় তৎকালীন অবৈধ সরকার।

    এমন এক সংকটময় অবস্থায় জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী যোগাযোগ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধির সঙ্গে এবং অনুরোধ করেন ভারতে বঙ্গবন্ধু কন্যাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেবার জন্য,শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীও এতে রাজি হয়ে গেলেন।

    ২৪শে আগষ্ট শেখ হাসিনা ও পরিবারের বাকি সদস্যরা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে করে পালাম বিমানবন্দরে অবতরন করেন। তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে ৪ঠা সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেখা করলে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যাদের আশ্বাস দেন এবং ইন্ডিয়া গেটের কাছে পান্ডারা পার্কের ‘সি’ ব্লকে একটি ফ্ল্যাটে তাদের থাকার ব্যাবস্থা করে দেন।

    শেখ হাসিনার ওপর কড়া নির্দেশ ছিল যে তিনি যেন ঘরের বাইরে না যান, অথবা কারও সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ না করেন। এবং তাঁদের ভারতে থাকার বিষয়টি গোপনীয় রাখা হবে বলে জানান। তাঁর নিরাপত্তার জন্য দুইজন অফিসার নিয়োগ করা হয়।

    ভারতে বঙ্গবন্ধু কন্যারা সুরক্ষিতই ছিলেন কিন্তু ১৯৭৭ সালে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী নির্বাচনে হেরে গেলেন মোরারজি দেশাই এর কাছে। তখনই বিপত্তি বাঁধলো, নতুন প্রধানমন্ত্রী খুব একটা আগ্রহ দেখালেন না এমন রাজনৈতিক আশ্রয় এবং ‘র’ এর কাজে।

    শেখ হাসিনার দিল্লীর ফ্ল্যাটে বিদ্যুৎবিল বন্ধ করে দিলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী,যাতায়াতের জন্য যে গাড়ীর ব্যবস্থা করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী তাও ফিরিয়ে নিলেন মোরারজি দেশাই। নিরপত্তা ব্যাবস্থা থেকেও হাত গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।

    ‘র’ এর একজন এজেন্ট একবার একটি প্রতিবেদনে বলেছিলেন “মিস্টার দেশাই চাইছিলেন ওনারা (বঙ্গবন্ধু কন্যারা) যেনো নিজ ইচ্ছায় দেশে ফেরত চলে যায়”।
    তবে ১৯৮০-র জানুয়ারিতেই ইন্দিরা গান্ধী আবারও ক্ষমতায় ফিরে এসেছিলেন।
    সেই সাথে শেষ হয়েছিল শেখ হাসিনার সব দুশ্চিন্তা।

    ১৯৮০তে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে দিল্লিতে এসেছিলেন, অনুরোধ করেছিলেন তাঁকে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার জন্য।

    ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাঁকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপর তাঁর দেশে ফেরা ঠেকাতেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তত্কালীন জিয়াউর রহমানের সরকার

    কিন্তু ১৯৮১ সালের এইদিনে শেখ হাসিনা মেয়েকে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ আর কোরবান আলীর সঙ্গে ঢাকা রওয়ানা হন।

    তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজটি সেদিন বিকেলে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। এ সময় সারা দেশ থেকে আসা লাখো মানুষ তাঁকে স্বাগত জানায়, ভালোবাসায় সিক্ত হন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

    ঠিক যেভাবে ১০ই জানুয়ারি ১৯৭২ সালে কবির ভাষায় “দিগ্বিদিক দামামা বাজিয়ে” বাংলাদেশে এসেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,ঠিক সেভাবেই তৎকালীন শোষক সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষে করে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা!

    সেদিন ১৭ই মে ১৯৮১, ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রবিবার তখন অঝোরধাঁরায় ঝড় বইছিলো,সেদিন সব উপেক্ষা করে সারা ঢাকা শহরকে মিছিলের নগরীতে পরিণত করে জমায়েত হয় ১৫ লক্ষ মানুষ!

    তৎকালীন অবৈধ শোষক সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্লোগান “জয় বাংলা” কে নিষিদ্ধ করেছিলো ঠিকই কিন্তু আপামর জনতা সেদিন কোনো বাঁধা মানেনি “জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগানে সেদিন প্রকম্পিত হয়েছিলো ঢাকার আকাশ আর রাজপথ।

    সেদিন শেরেবাংলানগরে জনতার সংবর্ধনার জবাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উত্সর্গ করতে চাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘জীবনে ঝুঁকি নিতেই হয়, মৃত্যুকে ভয় করলে জীবন মহত্ব থেকে বঞ্চিত হয়।’

    এরপর শুরু হয় শেখ হাসিনার একঅন্য যাত্রা,এ যাত্রায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করতে হবে,মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে হবে। এরপর একাধিকবার তাঁকে হত্যাচেষ্টা করা হলেও দুষ্কৃতিকারীরা কখনোই সফল হয়নি,সফল হয়েছেন শেখ হাসিনা সফল করেছেন আওয়ামী লীগ কে।

    স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নিরবচ্ছিন্ন দীর্ঘ সংগ্রাম শুরু হয়। তিনি দীর্ঘ চার দশক ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    তিনি বহুবার হামলার শিকার হয়েছেন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর সহযোদ্ধারা জীবন দিয়েছেন। জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, কিন্তু থেমে যাননি তিনি। চারবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    আপামর জনসাধারনের কাছে বঙ্গবন্ধু ছিলেন তাঁদের প্রানের মানুষ তাদের “শেখ সাহেব”। আর সেদিন সবাই বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে নতুনরুপে আবারো বঙ্গবন্ধুকে খুজে পেলেন শেখ হাসিনার কাছে, খুজে পেলেন তাঁদের “শেখের বেটিকে”

    © এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
    / month
    placeholder text

    সর্বশেষ

    রাজনীাত

    বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য বিদেশে হাসপাতাল খোজা হচ্ছে

    প্রভাতী সংবাদ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন আবেদনে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক...

    আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

    আরো পড়ুন

    Leave a reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    spot_imgspot_img