More

    ছাত্রলীগের রাজনীতি, সাংবাদিকতা, আমলাতন্ত্র ও বাস্তবতা

    মাসুফ আহমেদ

    বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামোতে কোন আলাপই সমাপ্তি পায় না।মানে একটা ঘটনার প্রেক্ষিতে চারদিক থেক চাররকমের তর্ক উঠতে দেখবেন;কিন্তু ফলাফল শূন্য। ঘটনাচক্রে আবার কোন একদিন প্রায় একইরকম আলোচনার সূত্রপাত দেখতে পাবেন এবং সেটার মীমাংসা না হতেই দেখবেন আমরা আলোচনার ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছি।

    যেমন ধরেন,আপনি বললেন ছাত্রলীগে ত্যাগের কোন মূল্যায়ন নেই।সাথে সাথে দেখবেন একঝাঁক কমেন্টকারী উপস্থিত যারা নিজেদের আপনার মতই ত্যাগী ভাবে এবং চলমান সিস্টেমের প্রতি বীতশ্রদ্ধ।আমি ভেবে কূল পাই না সবাই এত এত দায়িত্বশীল বুলি আওড়ায় তবুও কাঙ্ক্ষিত গুণগত পরিবর্তন আসে না কেন!মানে ছাত্রলীগ একটা উদাহরণ মাত্র;আদতে সবক্ষেত্রেই আমাদের দশা প্রায় কাছাকাছি।

    আরও পড়ুন: আমলাদের হাতে সব ছাড়া যাবে না: তোফায়েল আহমেদ

    জাতীয় সংসদে সাংসদেরা আক্ষেপ করে বলেছেন অনেকক্ষেত্রে তাদের আমলাদের মুখাপেক্ষী থাকতে হয়।ক্ষমতার প্রশ্নে আমলারা রাজনীতিবিদদের পেছনে ফেলে দিয়েছেন।আমাদের ভাগ্য নির্ধারিত হয় যে ঘরে সেখানে এমন কথা উঠলে সমস্যা তো গুরুতর।প্রশ্ন হচ্ছে পরিস্থিতি যদি এতটাই বাজে হয় তাহলে এর জন্য দায়ী কে?সাংসদেরা এমনভাবে কথা বলেছেন যেন এই সিস্টেম সম্পর্কে তারা একেবারেই ওয়াকিবহাল নন।তারা আচমকা দেখলেন একটা সিস্টেম খাড়া হয়ে গেছে।

    আরও পড়ুন: ‘যে নারী পুরুষের সঙ্গে পাবলিক বাসে উঠে, ইমাম মাহাদীর বিরুদ্ধে এরাই যুদ্ধ করবে’

    দশ বছরের বালকও তাদের এই ‘নিষ্পাপ’ সাজার অভিনয়টা ধরতে পারেন।সচিব অবসরের পর এমপি হয়,মন্ত্রীও হয়;ব্যবসায়ী আচমকা সিদ্ধান্ত নেয় সে মনোনয়ন কিনবে তখন এই ঝানু রাজনীতিবিদেরা কোথায় থাকেন?টাকা দিলেই যদি নেতা হওয়া যায় তাহলে মাঠে বেহুদা সময় নষ্ট করবে কে?আর টাকাওয়ালারা যে টাকা ছড়ান সেটার বখরা কোথায় যায়?

    তোফায়েল আহমেদ যিনি একেবারে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে উঠে গিয়েছেন তিনি পর্যন্ত অনেকটা অভিমানের সুরে কথা বলেছেন।ছাত্রলীগকে দেওয়া তার সেবা ও জাতির সংকটে অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে প্রশ্ন তুলতে চাই ভোলায় তার ব্যাকআপ হিসেবে কয়জন রাজনীতিক তিনি তৈরী করেছেন?অথচ এত বড় মাপের নেতার হাত ধরে তার নিজ এলাকায় নেতৃত্বের একটা শক্ত পাইপলাইন সৃষ্টি হওয়ার কথা!

    বর্তমানে কতজন সাংসদ জাতীয় সংসদে রয়েছেন যারা একসময় ছাত্রলীগ করতেন?ভবিষ্যতে সংখ্যাটা কমার কথা।আমার মনে হয় ছাত্রলীগের নেতাদের মেধায় নেত্রী খুব বেশী ভরসা করতে পারেন না।পারবেন কীভাবে?আমাদের বিভিন্ন ইউনিটের কমিটিগুলো অমুক নেতার-তমুক নেতার পকেট কমিটি।ছাত্রনেতা হতে গেলে পায়ের সাথে কতকিছু যে চাটতে হয় তারা জানে যারা নেতা হয়।

    জাবিতে স্বচক্ষে অনেককিছু দেখেছি।একজন মাঝারি মানের সাংবাদিক ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক ব্যতীত কাউকে গোনে না।সাংবাদিক-নেতা হলে উল্টো আমাদেরই চুপসে থাকতে হত।ভুলেও কোন সাংবাদিকের সাথে কথা কাটাকাটি হলে বিপদ!আমাদের নেতা ধমক দিয়ে ছবক দেবেন সাংবাদিকদের শাহী সালাম দিয়ে চলতে হবে।অনেক অমেরুদন্ডী প্রাণীকে আবার দেখতাম তার নেতার মতই সাংবাদিকদের একটু সাইডে নিয়ে কি কি যেন আলাপ করেন।

    ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সাংবাদিক ভাইটি অনীহার সাথে মাঝারি নেতাটির খোশগল্প শোনেন এবং নিজের সুপিরিয়রিটি ধরে রাখেন।এই অমেরুদন্ডী প্রাণী মূল দুই পোস্টে গেলে সংগঠনের কি অবস্থা হবে?কর্মীরা সাংবাদিক,শিক্ষক,শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা,কর্মচারী,সুইপার প্রত্যেককে তোয়াজ করে চলতে বাধ্য থাকবে।আর যাদের ন্যূনতম আত্মসম্মান রয়েছে তারা দূরে দাঁড়িয়ে দুঃখ করবে আর সারাজীবন কর্মী থাকাটা নিজের নিয়তি বলে মেনে নেবে।

    সাংসদেরাও যে বুঝতে পারছেন তারা ‘কিছুই না’ এটাই আপাতত স্বস্তির সংবাদ।গাছের গোড়ায় পানি না দিলে আগা সতেজ থাকে কীভাবে?

    © এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
    / month
    placeholder text

    সর্বশেষ

    রাজনীাত

    বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য বিদেশে হাসপাতাল খোজা হচ্ছে

    প্রভাতী সংবাদ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন আবেদনে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক...

    আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

    আরো পড়ুন

    Leave a reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    spot_imgspot_img