More

    শহীদ বদিউল আলমঃ ক্ষণজন্মা এক তরুণের চিরস্মরণীয় অবদান

    রুবিনা হোসেন:

    এক ক্ষণজন্মা তরুণের কথা বলছি। ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। মৃত্যুর তারিখ ছিল অজানা কারণ তিনি স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেননি। নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব ছিল না কবে এবং কীভাবে তাঁকে চলে যেতে হয়েছিল। তবে এটা নিশ্চিত ছিল যে নারকীয় নির্যাতন আর অমানুষিক যন্ত্রণা সহ্য করে তিনি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন। কেন এমন মৃত্যু?

    দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয়ার পথে ছিল একটি দেশ। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের। কিন্তু দেশটির জন্ম–প্রক্রিয়া খুব সহজ ছিল না। নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি আপামর জনসাধারণ বিশেষ করে তরুণসমাজ হানাদার বাহিনীর শৃঙ্খল থেকে দেশকে মুক্ত করার মরণপণ লড়াইয়ে শামিল হয়েছিল ।

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি পরিচিত নাম ক্র্যাক প্লাটুন- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ঢাকা ও এর আশপাশে গেরিলা আক্রমণ পরিচালনাকারী তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত দল। এই দলের সদস্যরা হিট অ্যান্ড রান কৌশলে অসংখ্য অভিযান পরিচালনা করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক ত্রাসের সঞ্চার করেছিল।

    কিন্তু একাধিক সফল অপারেশনের পর আগস্ট মাসের শেষদিকে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যায়। ধরা পড়েন বেশ কয়েকজন সূর্যসন্তান। ১৯৭১ সালের ২৯-৩১ আগস্টের মধ্যে ক্র্যাক প্লাটুনের যে ক’জন গেরিলা পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে পরবর্তী সময়ে শাহাদত বরণ করেন, তাঁদেরই একজন ছিলেন এই ক্ষণজন্মা তরুণ- বদিউল আলম।

    শহিদ বদিউল আলম, বীর বিক্রম। তাঁর ডাকনাম তপন হলেও সর্বত্র তিনি বদি নামেই পরিচিত ছিলেন। ছয় ভাই এবং এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিনি। বাবা আব্দুল বারী প্রথম জীবনে সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন, পরবর্তীকালে সরকারি চাকুরি ছেড়ে ব্যবসায়ে মনোনিবেশ করেন। মা রওশন আরা খানম ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ডিগ্রীধারী।

    মেধাবী ছাত্র বদিউল আলম ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে সম্মান এবং ১৯৭০ সালে করাচী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে এমএ পাস করেন। তীক্ষ্ণ মেধা, অসাধারণ স্মরণশক্তি এবং বলিষ্ঠ ও প্রতিবাদী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন বদিউল আলম।

    ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন অকুতোভয় সেনানী হিসেবে বদিউল আলমের অবদান নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাঁর সাফল্য ও বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত করে। কিন্তু বদিউল আলমের মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব এমন কিছু সাহসিকতাপূর্ণ অবদান রয়েছে যা ইতিহাসের পাতায় সেভাবে উঠে আসেনি।

    তাঁর এই অজানা বীরত্বের কথা বৃহৎ পরিসরে উপস্থাপন করা দায়িত্ব মনে করছি। সম্প্রতি প্রকাশিত দীপ্র তপন শহিদ বদিউল স্মারকগ্রন্থে ‘৬৯ এর ছাত্র-আন্দোলনে তাঁর সাহসিক ভূমিকা ও অবদানের কথা সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। বদিউল আলমের সাথে আন্দোলনে অংশ নেয়া কয়েকজন সম্মানিত নেতাকর্মীর লেখনীতে এই বিষয়ে বিশদ বিবরণ রয়েছে।

    ‘দীপ্র তপন- শহিদ বদিউল আলম স্মারকগ্রন্থ’ সম্পাদনা লুৎফুল হোসেন ও রুবিনা হোসেন

    ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মুক্তিসংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আইয়ুব খান সরকারের পতন ঘটে এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। একথা অনস্বীকার্য যে ’৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যেই সুপ্ত ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের বীজ।

    এই গণ-অভ্যুত্থানের প্রারম্ভে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আহুত ছাত্র-আন্দোলনের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। কেননা ছাত্রদের এই আন্দোলনই পরবর্তীকালে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন বদিউল আলম। ১৯৬৯ সালের ১৭ জানুয়ারি এই পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে ১১-দফা দাবি আদায়ের জন্য কর্মসূচি ঘোষণা দেয়।

    ১৮ জানুয়ারি পুলিশের জারিকৃত ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে ছাত্ররা রাজপথে নেমে আসলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। দাঙ্গা পুলিশ, ইপিআর এর টিয়ার গ্যাস শেল এবং গরম জলের স্প্রের বিরুদ্ধে ছাত্রদের হাতিয়ার ছিল শুধু ইট-পাটকেল। রাজপথে ছাত্রদের এই আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছিলেন বদিউল আলম। বিস্ফোরিত হবার আগেই টিয়ার গ্যাস শেল কীভাবে পাল্টা পুলিশের ওপরে নিক্ষেপ করা যায়, সেই কৌশল তিনি আন্দোলনে শামিল ছাত্রদের শিখিয়ে দিয়েছিলেন ।

    দুর্দান্ত সাহসের অধিকারী বদিউল আলম পুলিশের সাথে রাস্তার এই সংঘর্ষে নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় থাকতেন। আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে গিয়ে তিনি মারাত্মক আহত হয়েছিলেন । এই প্রসঙ্গে সাবেক সাধারণ সম্পাদক (ডাকসু) নাজিম কামরান চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি রচনায় ছাত্র সমাজের এই ১১-দফা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অবদান রাখে।

    বদির মতো সাহসী নেতাকর্মীদের ভুমিকার জন্যই আমাদের ছাত্র আন্দোলন পর্যায়ক্রমে গণ-আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান, সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের রূপ নেয় ও সফলতা লাভ করে। ১৯৬৯ সালের ছাত্র আন্দোলনে বদিউল আলমের যে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা, সেটাকে প্রকারান্তরে তাঁর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের মহড়া বললে ভুল কিছু বলা হবে না।

    বদিউল আলমের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায় যে তিনি একেবারেই অন্যায় সহ্য করতে পারতেন না। অন্যায় দেখলেই রুখে দাঁড়াতেন এবং পরিণতি চিন্তা না করেই প্রতিহত করার চেষ্টা করতেন। এক কথায় নিপীড়ন ও নিপীড়কের বিরুদ্ধে সর্বদাই তিনি ছিলেন সোচ্চার। কাজেই সহজেই অনুমেয় যে মানুষ দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের সাথে আপস করতে পারেন না, তাঁর পক্ষে কীভাবে সম্ভব ২৫মার্চ কালরাতে পাকবাহিনীর নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ নীরবে মেনে নেয়া?

    আর তাই কারফিউ ওঠার পর প্রথম গেরিলাদলের একজন হয়ে ২৮ মার্চ অস্ত্রের সন্ধানে ঢাকা ত্যাগ করেন। উল্লেখ্য, প্রথম গেরিলাদলের সকলেই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ছাত্র। এরা হলেন- বদিউল আলম, আশফাকুস সামাদ, শহিদুল্লাহ খান (বাদল) এবং মাসুদ ওমর । কিশোরগঞ্জে অবস্থানরত সেকেন্ড ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট থেকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র নিয়ে এপ্রিলের প্রথমদিকে প্রথম গেরিলাদল সর্বপ্রথম ঢাকা প্রবেশ করেন।

    শুধু ঢাকা শহরেই নয়, বদিউল আলমের সদর্প বিচরণ ছিল তাঁর নিজ এলাকা কিশোরগঞ্জেও । মুক্তিযুদ্ধ শুরু হবার পর দীর্ঘ সময় তিনি সেখানে অতিবাহিত করেন । বদিউল আলমের নেতৃত্বে তাঁর মামা, ভাই, বন্ধু, নিকট-আত্মীয় ও স্থানীয় কিছু তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল মুক্তিবাহিনীর দল। তবে ঢাকার অপারেশনে তিনি সরাসরি পাকবাহিনীর মুখোমুখি হলেও গ্রামাঞ্চলে মূলত রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্যদের শায়েস্তা করাই ছিল তাদের দলীয় কার্যক্রম।

    নিরহংকারী এবং উচ্চশিক্ষিত তরুণ বদিউল আলম গ্রামের সাধারণ মানুষদের সাথে আপনজনের মতো কথা বলতেন, তাদের স্বাধীনতার স্বপ্নে উজ্জীবিত করতেন। কিশোরগঞ্জের তাড়াইল, ইটনা, মদন, কেন্দুয়া, পাকুন্দিয়ার থানার বিভিন্ন এলাকায় তাদের অপারেশন পরিচালিত হয়। এসময় বদিউল আলমের দলভুক্ত ঘনিষ্ঠ নিকট-আত্মীয়দের কাছ থেকে তাঁর মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় । তারা জানান বদিউল আলমের খাবার বা বিশ্রামের দিকে কোন খেয়াল ছিল না । কীভাবে দেশকে স্বাধীন করা যাবে সেটাই ছিল তাঁর একমাত্র এবং সার্বক্ষণিক চিন্তা ও স্বপ্ন । একবার তিনি তাঁর জন্য খাবার নিয়ে অপেক্ষারত মুরুব্বীকে বলেছিলেন,

    ‘নানু, অপারেশনের কাজ আগে- তারপর খাবার। স্বাধীনতার চিন্তা, অপারেশনের চিন্তায় খাবারের কথা মনে থাকে না।’

    সব সময় অস্থির থাকতেন এবং সকলের অগোচরে প্রয়োজনে ঢাকা চলে যেতেন এবং কিছুদিন পরেই ফিরে আসতেন । সেই সময় ঢাকা যাওয়া-আসা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল তা বলার অবকাশ রাখে না। অনেক সময় সহযোদ্ধারা যখন রাতে বিশ্রাম করতেন, বদিউল আলম কাউকে না জানিয়ে বেরিয়ে যেতেন। ফিরে এসে জানাতেন যে রেকি করতে গিয়েছিলেন, তা-ও রাতের বেলা একা ।

    ভারত থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ ছাড়াই সেক্টর ২- এর আরবান গেরিলা ইউনিটের সদস্য হিসেবে তিনি একাধিক দুর্ধর্ষ গেরিলা অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন যা উচ্চ-প্রশিক্ষিত পাকবাহিনীর মধ্যে রীতিমতো আতংকের সৃষ্টি করেছিল। তাঁর সহযোদ্ধা হাবিবুল আলম, বীর প্রতীক বলেন,

    A very brave man was Bodi. Any one of us would have liked Bodi to be on his side while undertaking the guerilla actions inside the city. And I was privileged to have Bodi with me in some of the actions that created havoc with the occupation Pakistani Army

    এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল ৮ আগস্টের ফার্মগেট অপারেশন এবং ২৫ মার্চ ধানমন্ডি অপারেশন । এছাড়া ১৯ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন রেকি করার সময় নৌকাভর্তি পাকসেনাদের মুখোমুখি হয়ে পড়লে, বদিউল আলমের তাৎক্ষনিক ভুমিকার কারণে অন্যান্য গেরিলাদের জীবন রক্ষা পায়।

    আগস্ট মাসে ক্র্যাক প্লাটুনের যোদ্ধারা যখন একের পর এক দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে টিক্কা খানের সামরিক শাসনের ভিতে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল, সেই সময় এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বিশ্বাসঘাতকতায় সর্বপ্রথম পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে যান বদিউল আলম।

    ২৯ আগস্ট, রবিবার, দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর জালালউদ্দিন সাহেবের বাসায় তাঁর ছেলে ফরিদ ও অন্য বন্ধুদের সাথে তাস খেলছিলেন বদিউল আলম। কিছুক্ষণ পর ইতিহাসের এই ঘৃণিত চরিত্র ফরিদ বাসা থেকে বেরিয়ে যায় এবং ফিরে আসে কয়েকজন পাকসেনা নিয়ে এবং ধরিয়ে দেয় বদিউল আলমকে।

    এরপর ২৯ থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে একে একে ধরা পড়েন রুমী, জুয়েল, আজাদ, বাকের, হাফিজ, আলতাফ মাহমুদ , চুল্লুসহ আর অনেকেই। এদের মধ্যে বেশিরভাগই ফিরে আসেনি। বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে যায় তাঁদের নাম।

    আজ ২৯ আগস্ট- বদিউল আলমের ৫০তম অন্তর্ধান দিবস।

    মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদ সূর্যসন্তানদের প্রতি জাতির গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

    লেখকঃ কলামিস্ট এবং ‘দীপ্র তপন- শহিদ বদিউল আলম স্মারকগ্রন্থ’ এর সম্পাদনায় ছিলেন

    © এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
    / month
    placeholder text

    সর্বশেষ

    রাজনীাত

    বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য বিদেশে হাসপাতাল খোজা হচ্ছে

    প্রভাতী সংবাদ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন আবেদনে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক...

    আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

    আরো পড়ুন

    Leave a reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    spot_imgspot_img