More

    ইউরো’র পরাজয়ের পরে ভেঙ্গে পড়েছে ব্রিটিশ ভদ্রতার মুখোশ

    বর্ণবাদের শিকার ব্রিটিশ কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়েরা

    নিশাত বিজয়:

    ৫৫ বছর ধরে কোনো শিরোপা জয় করতে পারেননি তারা। ইউরো কাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন ইংল্যান্ডের ভক্তরা। ব্রিটিশ ইংরেজ’রা পরিচিত দুনিয়ার সবচেয়ে ভদ্র জাতি হিসেবে, এভাবে তাদের ভদ্রতার মুখোশ খুলে পড়বে? সেটা কে ভেবেছিলো?

    নিজের ঘরের মাঠে প্রিয় দলের হার মেনে নিতে না পেরে ম্যাচ শেষে হামলা চালিয়ে বসলেন ইতালি সমর্থকদের উপরে।

    একইসাথে ইতালির বিরুদ্ধে ইউরো ২০২০ এর ফাইনালে পরাজয়ের পর ইংল্যান্ডের তিন জন কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলার অনলাইনে ব্যাপক বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হয়েছেন। গতরাতের খেলায় পেনাল্টি শুট-আউটে ইংল্যান্ডের যে তিনজন গোল মিস করে তিনজনই কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলার।

    আরও পড়ুন: মাশরাফির পরে রিয়াদের অবসর: নীরব প্রতিবাদের বার্তা কি?

    তারা আফ্রিকান বংশভূত ইংলিশ কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলার। ইংল্যান্ডের তিন খেলোয়াড় হলেন জেডন স্যাঞ্চো, মার্কাস র‍্যাশফোর্ড এবং বুকায়ো সাকা। ম্যানচেস্টার ইউনাইডের ফুটবলার মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের দেয়ালচিত্র বিকৃত করে দিয়েছে ইংলিশ শ্বেতাঙ্গ সমর্থকেরা।

    এই যে তাদের বর্ণবাদী চরিত্র সেটা তো এই আফ্রিকান’দের পূর্বপুরুষেরা ভালোই জানে, জানে এশিয়া থেকে আমেরিকা সবদেশের আদিবাসীরা।

    বর্ণবাদের শিকার ব্রিটিশ কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়েরা

    এইদিন, প্রথমার্ধে এক গোলের ত্যাগ করে ইংল্যান্ড। কিন্তু, দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরে ইতালি। ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে সমতায় ফেরে তারা।

    টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তুলেছে ইতালি।

    খেলা শেষ হলে ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম এলাকায় ইতালির সমর্থকদের ওপর আক্রমণ করে বসেন ইংল্যান্ড সমর্থকেরা। এছাড়া ট্রাফালগার স্কোয়ারে বড় পর্দায় খেলা দেখার পরও ইংলিশ ফুটবল ভক্তরা হামলা করে প্রতিপক্ষের সমর্থকদের ওপর।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম এলাকার ভাইরাল হওয়া ফুটেজে বৃটিশ সমর্থকদেরকে দলবেঁধে ইতালি ফ্যানদের পেটাতে দেখা যায় ।

    এছাড়াও, মাতাল হয়ে ইতালির সমর্থকদের উপরে বোতল, চেয়ার, আতশবাজি, বিয়ারের ক্যান, রাস্তায় ব্যবহৃত প্লাস্টিকের কোন ছুঁড়তে থাকে বৃটিশ সমর্থকরা।

    ব্রিটিশ পুলিশ জানায়, ওয়েম্বলির আশেপাশ থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    এক টুইটে ইংল্যান্ডের পুলিশ জানায়, ‘ফ্যানদের নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে ওয়েম্বলি ও সেন্ট্রাল লন্ডনে পুলিশ নিয়োজিত করা হয়েছে।’

    ম্যাচের শেষে ইংল্যান্ডের হয়ে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করা ইংল্যান্ডের মার্কাস র‍্যাশফোর্ড, জেডন সানচো ও বুকায়ো সাকাকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ ও বর্ণ বিদ্বেষী মন্তব্য করে ইংলিশ ফ্যানরা।

    যদিও ভক্ত ও দর্শকদের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

    ইংলিশ ফুটবল ভক্তদের এমন আচরণ নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০০৮ ইউরো ও ২০০৬ বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরেও তারা মারামারি ও প্রতিপক্ষ সমর্থকদের ওপর আক্রমণ করেছে।

    সাড়ে পাঁচ দশক পরে মধ্যে ইংল্যান্ড ইউরো ২০২০ এর ফাইনালে পৌঁছেছে। তারপর এই প্রথম কোন বড় টুর্ণামেন্টের শিরোপা জিতবে বলে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল ইংলিশ সমর্থকদের মাঝে। এই খেলা নিয়ে ইংলিশ সমর্থকদের মাঝে রীতিমত উন্মাদনা সৃষ্টি হয়। এমনকি ইংল্যাণ্ড ফাইনালে জিততে পারে, তাহলে যেন একদিন সাধারণ ছুটি দেওয়ার দাবিও তোলা হচ্ছিল।

    খেলার ভিতরে থাকতে পারে উন্মদনা তাই বলে দুনিয়ার সবচেয়ে সভ্য জাতির ভদ্রতা’র মুখোশ এভাবে খুলে পড়বে? তারা কতটা সভ্য জানে তাদের সাম্রজ্যবাদের নীচে পিষ্ট হওয়া দেশগুলি।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাদের সৈন্যদের জন্যে মজুদ করা খাদ্যের ফলে খাদ্যভাবে মারা যায় ২০ লক্ষ বাঙালী। এই পরিকল্পিত গণহত্যার ইতিহাস চাপা রয়েছে তাদের ভদ্রতার মুখোশের নীচে।

    নীল চাষের নামে এদেশের তাঁতদের হাত কেটে নেওয়া, তাঁত না বুনতে বাধ্য করা। অন্যদিকে ছিল কৃষকদের জোর করে নীল চাষে বাধ্য করে সেটা নিয়ে প্রজাদের নিপীড়ন করা তাদের পারিশ্রমিক না দিয়ে।

    অথচ এসব চাপা পড়ে গেছে তাদের ভদ্রতার গালগল্পে, কতটা গাল গল্প সেটা ইতিহাসের পাতা উল্টালেই বোঝা যায়। কিন্তু বিশ্ব গণমাধ্যম কিংবা জাতিসংঘ তো তাদেরই পক্ষে, তাই তারা এখনও ভদ্র জাতি স্বত্তা।

    © এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
    / month
    placeholder text

    সর্বশেষ

    রাজনীাত

    বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য বিদেশে হাসপাতাল খোজা হচ্ছে

    প্রভাতী সংবাদ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন আবেদনে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক...

    আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

    আরো পড়ুন

    Leave a reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    spot_imgspot_img