More

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে চীন, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা

    জুবায়দা আফরোজ:

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ একটি আঞ্চলিক পর্যায়ের সংঘর্ষ হলেও এর প্রভাব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনুভূত হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া), চীনের মত বৃহৎ শক্তিগুলো মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতিকে পুঁজি করে নিজ নিজ স্বার্থ-উদ্বারে সচেষ্ট ছিল। আপাত দৃষ্টিতে চীন,যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের কর্মকান্ডের ভিন্নতা থাকলেও প্রত্যেকের মূল লক্ষ্য একটাই ছিল।

    যেখানে চীন চেয়েছিল ভারতের মধ্যেমে সোভিয়েত ইউনিয়ন যেন দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে প্রভাবশালী হয়ে উঠতে না পারে। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল এ অঞ্চলে রুশ আধিপত্যকে বিপজ্জনক হতে না দিতে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের লক্ষ্য ছিল ভারত মহাসাগর পর্যন্ত তার প্রভাব বলয় (Spear of Influence) প্রসারিত করা। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একমত ছিল যে,এই আপাত বিরোধী লক্ষ্যগুলো অর্জিত হবে অখন্ড পাকিস্থানের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার মাধ্যমে।

    আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বৃহৎ শক্তিগুলোর ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। আর এই আবর্তনের মূল কারণ হল স্বার্থ। কোন দেশ বা অঞ্চলের ভৌগলিক অবস্থানের রাজনৈতিক গুরুত্বের উপর সে দেশ বা অঞ্চলের আন্তর্জাতিক তাৎপর্য অনেকাংশে নির্ভর করে। ভারতীয় উপমহাদেশের ভৌগলিক গুরুত্বের কথা ১৯০৩ সালে লর্ড কার্জন বলেছিলেন ”ভৌগলিক অবস্থানের কারণে ভারত উপমহাদেশ ক্রমান্বয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ন স্থান অধিকার করবে।

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বৃহৎ শক্তিদের আগ্রহের কারণঃ

    আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বৃহৎ শক্তিগুলোর ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। আর এই আবর্তনের মূল কারণ হল স্বার্থ। কোন দেশ বা অঞ্চলের ভৌগলিক অবস্থানের রাজনৈতিক গুরুত্বের উপর সে দেশ বা অঞ্চলের আন্তর্জাতিক তাৎপর্য অনেকাংশে নির্ভর করে। ভারতীয় উপমহাদেশের ভৌগলিক গুরুত্বের কথা ১৯০৩ সালে লর্ড কার্জন বলেছিলেন ”ভৌগলিক অবস্থানের কারণে ভারত উপমহাদেশ ক্রমান্বয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ন স্থান অধিকার করবে।”

    ভারত মহাসাগরের উপকূল জুড়ে তিনদিকে রয়েছে তিনটি মহাদেশ এশিয়া,আফ্রিকা,ওশেনিয়া। কৌশলগত সমুদ্রপথের অবস্থান ও ব্যাপক জনবহুল অঞ্চল। আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরে বিভিন্ন মহাদেশকে বিচ্ছিন্ন করলেও ভারত মহাসগর তিনদিক থেকে অর্ধবৃত্তাকার হয়ে তিনটি মহাদেশকে সংযুক্ত করেছে। ফলে এ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করতে পারলে তিনটি মহাদেশ ও কৌশলগত বাণিজ্য পথের উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা সহজতর হবে।

    বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ৭০ এর দশকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কূটনৈতিক উত্থান-পতন ছিল,ছিল ¯স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়। এসময় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধ। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় সমাজতন্ত্রের বিস্তার রোধ করতে যুক্তরাষ্ট্র সচেষ্ট ছিল এবং সোভিয়েত ব্লকের শক্তি বৃদ্ধি করতে সোভিয়েত ইউনিয়ন সচেষ্ট ছিল। বাংলাদেশের পক্ষে ছিল ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং বিপক্ষে ছিল পাকিস্তান,চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

     বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বৃহৎ শক্তিগুলো নিজ নিজ স্বার্থ সংরক্ষনের জন্য কখনো নীতি গ্রহন করেছে, কখনো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে, কখনো বা সামরিক আগ্রাসনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করেছে।

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হবার পর চীন ”পকিস্তান ঘেঁষা নীতি” গ্রহন করে। মূলত চীন বাংলাদেশকে সমর্থন না করার পেছনে বেশ কিছু কারণ ছিল।

    প্রথমত, চীন মনে করত যে বাংলাদেশের যুদ্ধ মূলত সেটি বুর্জোয়াদের সাথে যুদ্ধ। এ যুদ্ধে ক্ষমতা বুর্জোয়াদের দখলে চলে যাবে।

     দ্বিতীয়ত, চীন নিজেই একটি বহুজাতিক রাষ্ট্র। নিজের আত্মনিয়ন্ত্রন প্রশ্নে চীনে তখন অনেক সমস্যা বিরাজমান ছিল। ফলে একাধিক জাতি অধ্যুষিত দেশে সংগ্রামরত বিচ্ছিন্নতাবাদী জনতাকে সমর্থন করা চীনের জন্য সুবিবেচনার ছিলনা। চীনের উইঘুর,তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের কথা চিন্তা করে চীন বহুজাতিক দেশ হিসেবে অখন্ড পাকিস্তানকে সমর্থন করে।

     তৃতীয়ত, চীনের বিশ্বাস ছিল যে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে সেটি হবে ভারতের প্রভাবাধীন রাষ্ট্র ফলে এ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারকারী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের বিপরীতে পাকিস্থানকে সমর্থন করে।

     এছাড়াও চীনের দক্ষিণ সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চীন পাকিস্থানকে সমর্থন করে যা কৌশলগত দিক থেকে চিন্তা করলে একটি সুচিন্তিত কূটনীতি ছিল। সমাজতান্ত্রেক আদর্শ নয় মূলত জাতীয় স্বার্থের কথা চিন্তা করেই চীন পাকিস্থানপন্থী নীতি গ্রহন করে। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস চীনের নীতি আপাতদৃষ্টিতে পাকিস্থান ঘেঁষা মনে হলেও তা মূলত চীনের জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখন্ডতা নিশ্চিত করার নীতি।

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত রাশিয়ার অবস্থান ভূমিকাঃ

    ভারতীয় উপমহাদেশের ভৌগলিক অবস্থানের রাজনৈতিক গুরুত্বের কারনে এবং ভারত পাকিস্থানের সাথে রাশিয়ার সম্পর্কের পর্যায়ের প্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালে রুশ নীতি নির্ধারিত হয়েছিল। রুশ নীতির বিবাদের অভিজ্ঞতা। ১৯৭০ এর নির্বাচনে ভারতপন্থী ও কার্যত মস্কোঘেঁষা আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে রাশিয়া আশন্বিত হয়েছিল।

    মূলত এশিয়া ভূখন্ডে চীনের প্রভাবকে প্রতিহত করতে ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব বলয় সৃষ্টি করতে রাশিয়া বাংলাদেশকে সমর্থন করেছিল।তবে প্রাথমিকভাবে রাশিয়ার নীতি ছিল সমর্কতা ও সুবিধাবাদের নীতি। ৯ আগস্ট ১৯৭১ সালে ভারত সোভিয়েত চুক্তি হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়া ও ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ একই ছিল। উভয়ই চেয়েছিল বাংলাদেশে ভারত ও রাশিয়া পন্থী আওয়ামী সরকার ক্ষমতাসীন হোক।

     তবে রাশিয়া ও ভারতের দৃষ্টিভঙ্গীতে মৌলিক পার্থক্য ছিল যে ভারত চেয়েছিল একটি স্বাধীন বাংলাদেশে আময়ামী লীগ সরকার এবং রাশিয়া চেয়েছিল অখন্ড পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন সরকার হিসেবে আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠা করা।

     বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার ভূমিকা থেমে আমরা কয়েকটি উপসংহারে উপনীত হতে পারি।

    ১.এই উপমহাদেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের কথা চিন্তা করে রাশিয়ার প্রভাব বলয় সৃষ্টি করাই ছিল মূল লক্ষ্যবস্তু।

    ২.এই উপমহাদেশের ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে রাশিয়ার নৌ-বন্দর ও নৌ-ঘাটির প্রয়োজন ছিল যা এই উপমহাদেশের তীর ঘেঁষে গড়ে উঠবে।

    ৩.বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে রাশিয়া কখনোই খোলাখুলি সমর্থণ করেনি বা পাকিস্থানের বিরোধীতাও করেনি। প্রথম থেকে শেষ পর্র্যন্ত রূশ নীতি ছিল সুবিধাবাদী। তবে ডিসেম্বরে চুড়ান্ত পর্যায়ে রুশ নীতিতে কৌশলগত বাংলাদেশ পন্থী প্রবনতা পরিলক্ষিত হয়।

    সার্বিক মূল্যায়নে এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সোভিয়েত নীতি প্রনয়নে সমাজতান্ত্রিক আদর্শের চেয়ে জাতীয় স্বার্থই প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল।

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অবস্থান

    পাকিস্তানকে সমর্থন করে ইউ,এস স্টেট ডিপার্টমেন্টের পাঠানো টেলিগ্রাম , ছবি : ওয়ার ইজ বোরিং

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মার্কিন নীতি প্রথম থেকেই ছিল দ্ব্যার্থবোধক এবং ব্যাপক অর্থে বাঙালী স্বার্থের পরিপন্থী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্থান পন্থী নীতির অন্যতম কারন ছিল-

    প্রথমত, মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সাথে সিয়েটো ,সেন্টো  সামরিক চুক্তিতে আবদ্ধ ছিল। যার কারণে পাকিস্তানকে সমর্থন করার কোন বিকল্প ছিল না।

    দ্বিতীয়ত, ১৯৭০ এর দশকে ¯স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ছিল সোভিয়েত বিরোধী। পাকিস্থানের অখন্ডতার বিপরীতে ও এ অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব বৃদ্ধির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্থানের পক্ষ অবলম্বন করে।

     তৃতীয়ত, একটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে ও রাশিয়ার বিরোধী রাষ্ট্র হিসেবে চীনের সাথে কূটনীতির মধ্যেমে মার্কিন-চীন সম্পর্কন্নোয়নে পাকিস্থান ভূমিকা রেখেছিল।

    এসকল কারনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্থান ঘেঁষা নীতি গ্রহন করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন রিচার্ড নিক্সন এবং তার নীতি নির্ধারনে সহযোগী ছিলেন হেনরী কিসিঞ্জার। তবে মার্কিন প্রশাসনের বাংলাদেশ পরিপন্থী নীতি থাকলেও মার্কিন জনগন,সংবাদ গনমাধ্যম ও মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশের পক্ষে ছিল এবং  ক্রমাগতভাবে নিক্সন প্রশাসনকে এ মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্থানকে অস্ত্র সহায়তা বন্ধ করতে চাপ দিচ্ছিল।

    মার্কিন জনগন  ও দূতাবাস নিক্সনের নীতিকে পঙ্গুনীতি বলে সমালোচনা করেছিল। আন্তর্জাতিক গনমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট,নিউইয়র্ক টাইমস বাংলাদেশের হত্যাযজ্ঞ ও ঘটনাবলী সম্পর্ক বিস্তারিত সংবাদ প্রচার করছিল।

    সেকারনে হেনরী কিসিঞ্জার তার আত্মজীবনীর এক অংশে লিখেন, ”নীতি নির্ধারন করতে গিয়ে আমরা তিনটি বাঁধার সম্মুখীন হয়েছিল: পররাষ্ট্র দফতরের ভারতপ্রীতি,সমালোচনামুখর জনগন ও অভ্যন্তরীন শৃঙ্খলার অভাব।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রথম পর্যায় অর্থাৎ মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত ছিল কৌশলগত নিরপেক্ষতা। কিন্তু পরবর্তীতে জুলাই থেকে ডিসেম্বরে পিকিং সফর করা ও ৯ আগস্ট,১৯৭১ সালে ভারত-সোভিয়েত চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্থান ঘেঁষা নীতি গ্রহন করে।

    পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হবার পর যুক্তরাষ্ট্র অনেকটাই নিশ্চিত ছিল সে পূর্ব পাকিস্থান আক্রমনের পর ভারত পশ্চিম পাকিস্থান আক্রমন করবে।ফলে ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ভারত বিরোধী ও পাকিস্থানে ঘেঁষা নীতি প্রকট হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র এসময় পশ্চিম পাকিস্থানকে যাবতীয় নৈতিক ও কূটনৈতিক নির্দেশ দেন।

    নিক্সনের এই নীতি ছিল টিল্ট পলিসি (Tilt Policy)  যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ভারত মূল দায়ী ফলে মার্কিন নীতির মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করা। এসময় যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের মাধ্যমে  যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ভারতের উপর চাপ প্রয়োগ করতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালায় কিন্তু রাশিয়া ও পোল্যান্ডের ভেটোর ফলে তা সফল হয়নি।

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পরাশক্তিদ্বয়ের পারমানবিক যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টিঃ

    স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে বিশ্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মত বৃহৎ পরাশক্তির দ্বৈরথ দেখেছে আদর্শগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধেও এমন পারমানবিক যুদ্ধাবস্থার তৈরী হয়েছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ভারত মহাসগরে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের নৌবহরের উপস্থিতি  বলপ্রয়াগ কূটনীতি(Coercive Diplomacy) বা বোম্বেট কূটনীতি(Gunboat Diplomacy)এর শ্রেণীভুক্ত করা যেতে পারে।

    যেখানে বলা হয় যে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে নিজে কথা শুনতেবাধ্য করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভয় ছিল যে ভারত পশ্চিম পাকিস্থান আক্রমন করবে ও কাশ্মিরকে দখল করবে। ফলে এই বলপ্রয়োগিক কূটনীতির আলোকে নিক্সন বিমানবাহী পারমানবিক জাহাজ ”এন্টাপ্রাইজের” নেতৃত্বে ৮টি জাহাজ সম্বলিত ”ট্রাস্ক-ফোর্স-৭৪” ভারত মহাসাগরে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এই টাস্ক ফোর্সকে দুই ধরনের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

    ১.বাংলাদেশে মার্কিন নাগরিকদের উদ্ধার কাজে অংশগ্রহন করা।

    ২.প্রয়োজনে মার্কিন স্বার্থ রক্ষার জন্য সামরিক ভূমিকা পালন করা।

     বাংলাদেশে ব্রিটিশ নাগরিকদের উদ্ধার করতে ”এ্যালবিয়ন” নামক জাহাজ বঙ্গোপসাগরে পাঠায় ব্রিটেন। সোভিয়েত নজরদারি করে ও মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ভেবে প্রথমত সোভিয়েত ”ট্রাস্ক ফোর্স” ভারত মহাসগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে মার্কিন টাস্ক-ফোর্স-৭৪ এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বিতীয় টাস্ক ফোর্স প্রেরণ করে। যেখানে ভূমি থেকে ভূমি, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপনাস্ত্র ছিল।

    আমেরিকার ছিল মোট ১৪ টি যুদ্ধ জাহাজ ও ছোট ছোট কয়েকটি এবং রাশিয়ার ছিল মোট ২৬ টি যুদ্ধ জাহাজ। তবে টাস্ক ফোর্স পাঠানোর মধ্যেমে বিশ্বরাজনীতিতে যে মার্কিন নীতির প্রতিফলিত হয়েছিল সেটাকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বলসাম্য বলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বৃহৎ মিত্র ভাবাপন্ন সম্পর্ক থাকলেও বর্তমান বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় উভয় রাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করাই পররাষ্ট্রনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

    লেখক: স্নাতকোত্তর, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

    তথ্যসূত্র:

    বাংলাদেশের ইতিহাস-আব্দুর রহিম

    বাংলাদেশের ইতিহাস-সিরাজুল ইসলাম সম্পাদিত

    বাংলাদেশের ইতিহাসের রূপরেখা

    SUPER POWERS IN LIBERATION WAR – DR. MIZANUR RAHMAN SHELLEY

    © এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
    / month
    placeholder text

    সর্বশেষ

    রাজনীাত

    বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য বিদেশে হাসপাতাল খোজা হচ্ছে

    প্রভাতী সংবাদ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন আবেদনে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক...

    আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

    আরো পড়ুন

    Leave a reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    spot_imgspot_img