More

    জিন্দেগী না মেলে দোবারা (তৃতীয় পর্ব)

    মহসীন কবির কাজলঃ

    পিছনে তাকিয়ে দেখি আমার বন্ধু মিলন আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। হাতে দুটো বড় লাগেজ। বহু বছর পর দেখা হওয়ায় বন্ধুর সাথে সে কি কোলাকুলি!!

    কিছুক্ষণ দুজন দুজনকে গালাগালি করলাম। ও জানাল আমার দেয়া মোবাইল নম্বর ভুল ছিল। আর দেরি না করে দুজনেই ট্যাক্সি যোগে রাত সাড়ে আটটায় রওনা দিলাম হোটেল ওয়েলকাম দরকা’র উদ্দেশ্যে। রাস্তায় ঢাকার মত ট্রাফিক জ্যাম লেগে আছে।

    হোটেল ওয়েলকাম এর সামনে লেখক

    হোটেলটি বিশাল পাচ তারকা মানের। রাত দশটা নাগাদ পৌছে গেলাম হোটেলে। ফ্রেস হয়েই দুজনে নিচে নেমে আসলাম। রাত তখন প্রায় বারটা। ডিনার শেষে রুমে ফিরে আগামীকালের প্ল্যান করে দিলাম ঘুম।

    মহসীন কবির কাজল। লক্ষীপুরের সন্তান। লেখাপড়ার শুরু চট্রগাম শাহিন স্কুল থেকে এসএসসি পরে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা থেকে এইসএসসি এবং সবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণ-যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী নিয়েছেন। বর্তমানে পেশায় ব্যাংকার। পর্যটক হিসাবে ঘুরে বেড়ানো তার নেশা। এর পাশাপাশি তিনি লেখালেখিও করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। তিনি ইন্ডিয়া ভ্রমণ করে এসে প্রভাতী সংবাদের পাঠকদের জন্য “জিন্দেগী না মেলে দোবারা” নামে লিখেছেন তার ভ্রমণ কাহিনী। সর্বমোট ২৬ পর্বে তিনি এই ভ্রমণ কাহিনি শেষ করেছেন। আজ এর ৩য় পর্ব।

    ভ্রমণের ২য় দিনঃ ৩রা নভেম্বর

    ভারতের রাজধানী দিল্লী এই নগরীর ইতিহাস বহু পূরানো।প্রায় তিন হাজার বছর আগে মহাভারতের মনিষীরা রাজত্ব করে গেছেন যমুনা নদীর তীরের এই দিল্লীতে।

    মুসলিম সালতানাত তথা মোঘল সাম্রাজ্যের তীর্থভূমি এই দিল্লী ।ইব্রাহিম লোদী, সম্রাট বাবর, হুমায়ুন, আকবর, জাহাঙ্গীর শাহজাহান, আওরঙ্গজেব দিল্লীর মসনদে বসেছিলেন।

    মূলত, বৃটিশদের হাতেই পরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠেছিল নতুন দিল্লী। তো সেই ঐতিহাসিক দিল্লীর জন্য সময় বরাদ্দ মাত্র এক দিন। সকালের নাস্তা সেরে, একটি কার ভাড়া করলাম সারা দিনের জন্য।

    শুরুতেই চলে গেলাম ঐতিহাসিক কুতুব মিনারে। দরকা থেকে জ্যাম ঠেলে প্রায় এক ঘণ্টা পথ পেরিয়ে পৌছলাম। প্যারিসের বিখ্যাত টাওয়ারের সঙে তূলনীয় এই মিনারটি যা নির্মিত হয়েছিল ১১৯৯ সালে।

    দিল্লীর কুতুব মিনারে লেখক ও তার বন্ধু মিলন

    কুতুবউদ্দিন আইবেক ইহা নির্মাণ করেছিলেন যা সত্যি অসাধারণ!! পরতে পরতে চড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেই সময়ের ইতিহাস। যা দেখে আমরা রীতিমতো মুগ্ধ।
    দুপুর ২ টায় আমরা গেলাম লোটাস ট্যাম্পলে। অদ্ভুত সুন্দর একটি দর্শনীয় স্থান।যেন পুরো একটি পদ্ম পানিতে ফুটে আছে। এটা এমন একটি উপাসনালয় , যেখানে একই সাথে সব ধর্মের মানুষ প্রার্থনা করতে পারে।

    এরপর, দে ছুট জন্তরমন্তরে। এটি একটি সুন্দর প্রাসাদ। ১৭২৪ সালে রাজা জয়সিংহ বানিয়ে ছিলেন।সময় কম হওয়াতে আমরা ছুটছি দুরন্ত গতিতে।
    এরপর ঐতিহাসিক ইন্ডিয়া গেট।

    দিল্লীর ইন্ডিয়ার গেটের সামনে লেখক ও তার বন্ধু মিলন

    এই গেট দিল্লী তথা সমগ্র ভারতবাসীর গর্ব। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে দানকারী বীর যোদ্ধাদের স্মরণে ১৯৩১ সালে সুউচ্চ গেটটি নির্মিত হয়। এলাকাটি লোকে লোকারান্য।
    সারাদিন লাঞ্চ করার সময় পাইনি। এখানে কফি খেয়ে আপাতত খুদা নিবারন করলাম। দিল্লী গেটেই সন্ধ্যা নেমে এল। রাত আটটায় আমাদের সিমলার বাস। আমরা অন লাইনে টিকিট কেটেছিলাম।

    এই সেই সিমলার বাস যা ধরার জন্য লেখক ও তার বন্ধু ছুটে চলেছে সিমলার উদ্দ্যশ্যে

    কিন্তু রাস্তায় ভয়াবহ যানজট। ইতিমধ্যে সাতটা পয়তাল্লিশ বেজে গেছে। শুনেছি ইন্ডিয়ার আন্তঃজেলা বাসগুলো সময়মত ছাড়ে।আমাদের হাতে টিকেটও নেই। জাস্ট একটা মেসেজ। ছুটছি বাস টার্মিনালের দিকে।

    চলবে………..
    ভবঘুরে মন

    লেখক: কবি, কথা সাহিত্যিক ও ব্যাংকার

    © এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
    / month
    placeholder text

    সর্বশেষ

    রাজনীাত

    বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য বিদেশে হাসপাতাল খোজা হচ্ছে

    প্রভাতী সংবাদ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন আবেদনে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক...

    আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

    আরো পড়ুন

    Leave a reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    spot_imgspot_img