More

    যশোরে করোনা ও করোনা উপসর্গে মৃত ৯, কমছে শনাক্তের হার

    যশোর ব্যুরো

    যশোরে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ৪ জন এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জন মারা গেছেন।

    ৯০৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৮০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আজ শনাক্তের হার ৩১ শতাংশ। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছে ১৬৮জন।

    শনাক্তের এ উর্ধ্বগতি রুখতে লকডাউন কার্যকরের কাজ করছে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ বিভাগ ও বিজিবি। কিন্তু আজও সাধারণ মানুষের বেপরোয়া চলাফেরার করতে দেখা গেছে। এদিকে গ্রাম অ লে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

    যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, জুন মাসের প্রথম থেকে সংক্রমণের হার বাড়ছে। এটির যে উর্দ্ধমুখি ছিল সেটি কমছে না। ধারণা করা হচ্ছে এটি গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়েছে। যার কারণে বিধিনিষেধেও সংক্রমণ কমানো সম্ভব হচ্ছেনা। আশা করা হচ্ছে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে সংক্রমণের হার কমিয়ে আনতে সক্ষম হবো।

    যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজেস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, আমরা যশোর জেলায় কঠোর লকডাউন কার্যকর করে চলেছি। আশা করেছিলাম সংক্রমণের হার কমবে কিন্তু সাধারণ মানুষের অসচেতনতা এবং বেপরোয়া চলাফেরার কারণে সংক্রমণ উর্ধ্বগতির হ্রাস হয়নি। আমরা আশা করবো যশোরের মানুষ আরো সচেতন হবে। করোনার হার উর্ধ্বগতি আপনার ঘরে থাকুন সুস্থ মাক্স স্বাস্থবিধি মেনে চলুন।

    এদিকে গতকাল যশোরে শাটডাউনের প্রথমদিনে ৩০ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২৭,৫০০ টাকা জরিমানা করেছে। যশোর জেলার বিভিন্ন স্থানে ম্যাজিস্ট্রেট’রা অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করেছে।

    যশোর শহরের বিভিন্ন স্থানে নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান ও তানজিলা আখতারের ভ্রাম্যমান আদালত ফয়সাল, শাহাজান, ঝর্ণা, কেরামত, আলমগীর, মনির, বসির, ইসমাইল, কাইয়ুম, রঞ্জন, বশির, রওশন, বাসুদেব মোতালেব’কে জরিমানা করে বিনা কারণে বাইরে চলফেরা করার দায়ে।

    মনিরামপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্টেট আতিকুর রহমানের ভ্রাম্যমান আদালত আব্দুল আলীমকে জরিমানা করেছে।

    এছাড়াও শার্শার নির্বাহী ম্যাজিস্টেট নাভারণ বাজারে সুজন’কে, ঝিকরগাছার নির্বাহী ম্যাজিস্টেট ঝিকরগাছা বাজারে লিটন’কে, কেশবপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্টেট গণেশ, সাইফুল, জাহানারা খাতুন, হেকমত আলী, জাকির হোসেন, রাজকুমার, বাচ্চু, উত্তম কুমার, মুন্না, মোহন মিত্র, তারাপদ, বিশ্বনাথ, এনামুল’কে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিনা কারণে বাইরে চলফেরা করার দায়ে জরিমানা করেছে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার যশোরে এক সপ্তাহের লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী ও বিজিবি। যশোরের আট উপজেলায় ৮ প্লাটুন সেনাবাহিনী ও ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং পুলিশের শতাধিক চেকপোস্ট বসানো হবে।

    বুধবার রাতে লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা করোনা কমিটির জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যশোর সার্কিট হাউজে এই সভা শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান।

    যশোর জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, সারা দেশে করোনা সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১ জুলাই থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত সাতদিনের কঠোর লকডাউন জারি করেছে।

    জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যশোরের জেলা প্রশাসন এই বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করবে। সে অনুযায়ী যশোরের সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

    বিধিনিষেধ চলাকালীন যশোর জেলার অভ্যন্তরীণ সকল রুটে এবং আন্তঃজেলা বাস, ট্রেন ও সকল প্রকার গণপরিবহনসহ সিএনজি, ভ্যান, মোটরসাইকেল, থ্রি-হুইলার, হিউম্যান হলার বন্ধ থাকবে। তবে রোগী পরিবহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, পণ্য বহনকারী ট্রাক এবং জরুরি সেবাদানকারী পরিবহন এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে।

    এছাড়া যশোরে কাঁচাবাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান বেলা ১২ পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে সকল ধরনের দোকানপাট, শপিংমল, হোটেল, রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান বন্ধ থাকবে। ওষুধের দোকান সার্বক্ষণিক খোলা রাখা যাবে।

    নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে- জরুরি পরিষেবা যেমন- কৃষি উপকরণ, খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য, দুগ্ধ পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা কার্যক্রম, বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বেনাপোল স্থলবন্দরে জরুরি আমদানি-রফতানি, নওয়াপাড়া বন্দরের সার সরবরাহসহ অন্যান্য কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, গণমাধ্যম, বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাকসেবা, ব্যাংকসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য এবং সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, স্থানীয় সরকারের অধীন অফিসসমূহ, সরকারি অফিসসমূহ।

    অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী সকলকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে।

    নির্দেশনা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সকল পর্যটনস্থল, পার্ক, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

    জনসমাবেশ হয় এমন ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জমায়েত বন্ধ থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ওয়াক্তের নামাজ মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন ও খাদেমসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন ও জুম্মার নামাজ সর্বোচ্চ ২০ জন জামাতে আদায় করবেন। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও এর বেশি জমায়েত হওয়া যাবে না।

    যশোর জেলা করোনা কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সেলিম রেজা, সেনাবাহিনীর ৯ বেঙ্গল ল্যান্সারের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. তানভীর আলম, ৩৭ বীর’র অধিনায়ক মেজর মো. আরিফুল হক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক হুসাইন শওকত, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীনসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সেনাবাহিনী ও বিজিবির প্রতিনিধিবৃন্দ।

    © এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
    / month
    placeholder text

    সর্বশেষ

    রাজনীাত

    বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য বিদেশে হাসপাতাল খোজা হচ্ছে

    প্রভাতী সংবাদ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন আবেদনে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক...

    আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

    আরো পড়ুন

    Leave a reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    spot_imgspot_img