More

    খুলনা বিভাগে করোনায় প্রাণ গেল আরও ৪০ জনের, রেকর্ড শনাক্ত

    খুলনা ব্যুরো

    খুলনায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ যেন আরও উর্দ্ধে উঠছে। করোনায় প্রাণহানির রেকর্ড গড়ার পরে এবার শনাক্তের হারেও রেকর্ড হয়েছে ।

    মঙ্গলবার একদিনে রেকর্ড করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৬৫ জনের। আর গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। এ পর্যন্ত বিভাগে ১ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হল করোনায়।

    মঙ্গলবার (৬ জুলাই) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক রাশেদা সুলতানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে সোমবার (৫ জুলাই) খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। একইদিন সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৭০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।

    বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনায়, কুষ্টিয়ায় ১৩ জন, যশোরে ছয়জন, মেহেরপুরে তিনজন এবং ঝিনাইদহ, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে মারা গেছেন।

    এ নিয়ে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ৬৩ হাজার ৮৯৯ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৩০৫ জন। এ সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১ হাজার ৪৭ জন।

    যশোরে করোনা টেস্ট রিপোর্ট মিসিং

    যশোরে অনেক করোনাক্রান্তদের রিপোর্ট মিসিং বলে ম্যাসেজ এসেছে যাদের কাছে থেকে করোনা’র স্যাম্পল নেওয়া হয়েছে তাদের ফোনে। যশোর সিভিল সার্জন কার্যলয়ের ম্যাসেজে বলা হয়েছে যেন আবারও যেন তারা তাদের স্যাম্পল দেন।

    তবে এ বিষয়ে যশোর সিভিল সার্জন ডা. আবু শাহীনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

    করোনা’র দ্বিতীয় ধাক্কা: আরও ৭ দিন বাড়ল শাটডাউন

    করোনা’র দ্বিতীয় ধাক্কা নিয়ন্ত্রণে আরও ৭ দিন চলমান শাটডাউন বাড়িয়েছে সরকার। ১৪ জুলাই মধ্য রাত পর্যন্ত বহাল থাকবে শাটডাউনের বিধি নিষেধ।

    সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ নিয়ে প্রজ্ঞাপনে জারি করা হয়েছে।

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশে গত বৃহস্পতিবার থেকে চলছে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন।

    মন্ত্রিপরিষদের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শাটডাউনের সময়টায় কেউ অকারণে ঘর থেকে বের হতে পারবেন না। এমন কাউকে পাওয়া গেলে নেয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।

    যশোরে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৪২ শতাংশ ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

    যশোরে করোনার ভারতীয় ডেল্টা ধরণ ৪২ শতাংশ ও আফ্রিকার গামা ধরণ ৩০ শতাংশ ছড়িয়ে পড়েছে। যা এখন গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতীয় ধরণে আক্রান্ত একজন রোগী ৬ জনকে আক্রান্ত করছে। তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার আশংকা ৮৩ শতাংশ, আর আফ্রিকার ধরণে হৃদরোগে আক্রান্ত হবার আশংকা ৬০ শতাংশ।

    যশোর জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এপর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দেড়শ’ ছাড়ালো। এই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৪২ জনের। ৫৩৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে সনাক্তের এই সংখ্যা পাওয়া গেছে।

    যশোর বিজ্ঞাণ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক ড, ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, যশোরে করোনার ভারতীয় ডেল্টা ধরণ ৪২ শতাংশ ও আফ্রিকার গামা ধরণ ৩০ শতাংশ ছড়িয়ে পড়েছে। যা এখন গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে। ভারতীয় ধরণে আক্রান্ত একজন রোগী ৬ জনকে আক্রান্ত করছে। তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার আশংকা ৮৩ শতাংশ, আর আফ্রিকার ধরণে হৃদরোগে আক্রান্ত হবার আশংকা ৬০ শতাংশ। এটাকে আটকাতে হলে দ্রুত টিকাদান অথবা মানুষের শরীরে ইমিউনিটি বাড়াতে হবে। না পারলে সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি আসতে পারে।

    যশোরের জেলা প্রশাসক মো: তমিজুল ইসলাম খান জানান, যশোরে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। শনাক্তের উর্ধ্বগতি রুখতে কঠোর বিধি-নিষেধ কার্যকরে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। বিধিনিষেধ প্রতিপালনে গতকাল থেকে সেবাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। করোনা রুখতে জনগণকেও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বিধিনিষেধ প্রতিপালনে সকলের সহযোগিতাও কামনা করেছেন তিনি।

    যশোরে শাটডাউন পালনে কঠোরতা

    আজ শনিবার যশোরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির হোসেন শামীম, হিল্লোল চাকমা ও আবু নাসিরের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সকাল দশ’টায় যশোর সিভিল কোর্ট চত্বরে কয়েকজনকে জরিমানা করেছে।

    শুক্রবার যশোরে শাট-ডাউনে করোনা বিধি না মানায় ১৩ অভিযানে ৫৪ জনকে ৩২,২৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছিলেন যশোরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির হোসেন শামীম।

    করোনা’র দ্বিতীয় ধাক্কা প্রতিরোধে লকডাউন

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে শাটডাউন। শাটডাউন বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।

    শাটডাউনের সময় জরুরি কারণ ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে এলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরকারি এক তথ্য বিবরণী জারি করা হয়েছিল।

    এতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে সারাদেশে সাতদিনের জন্য জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচল এবং বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    এ সময়ে জরুরি পরিসেবা কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ছাড়া এবং জরুরি কারণ ছাড়া ঘরের বাইরে কেউ বের হতে পারবে না। যদি কেউ বের হয় তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    গত বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিধি নিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রজ্ঞাপনে দেয়া হয়। সবাইকে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

    মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে খোলা থাকবে কাঁচাবাজার। কিন্তু সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেচা করতে হবে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন, বাজার কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসনকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার থেকে সাত দিনের শাটডাউন বা কঠোর বিধিনিষেধে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছে সরকার। এ নির্দেশ অমান্য করে কেউ বাড়ির বাইরে গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বুধবার দেয়া এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত এই শাটডাউন বা বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

    তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আর জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্তরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তারা কারা সেটাও নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

    এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন, বাজার কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসনকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। ফলে ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে এবং চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকারের জন্য বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে।

    শাটডাউনে কারা বের হতে পারবে, কারা পারবে না?

    যারা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকা নেবেন, তারা টিকা কার্ড দেখিয়ে বাইরে বের হতে পারবেন। আর খাবারের দোকান, হোটেল, রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রি (অনলাইন/টেকওয়ে) করতে পারবে।

    আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকায় বিদেশগামী যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকিট দেখিয়ে গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে নামাজের বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় যেভাবে নির্দেশনা দেবে সেভাবে চলতে হবে।

    সরকার শাটডাউন বাস্তবায়নে এবার সেনাবাহিনীকেও মাঠে নামাচ্ছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মাঠপর্যায়ে কার্যকর টহল নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনা মোতায়েন করবে।

    জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় সেনা কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করবে। এ ছাড়াও শাটডাউন বাস্তবায়নে মাঠে থাকবে বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার।

    তারা কীভাবে টহল দেবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করে সিদ্ধান্ত নেবেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। মাঠে থাকবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।

    আইনানুগ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেবেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

    © এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
    / month
    placeholder text

    সর্বশেষ

    রাজনীাত

    বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য বিদেশে হাসপাতাল খোজা হচ্ছে

    প্রভাতী সংবাদ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন আবেদনে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক...

    আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

    আরো পড়ুন

    Leave a reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    spot_imgspot_img