More

    দুই স্ত্রীর দ্বন্দ্বের জেরে ঘর ছাড়েন ত্ব-হা, দেওয়া হলো মায়ের জিম্মায়

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

    দুই স্ত্রীর দ্বন্দ্বের জেরেই ঘড় ছেড়েছিলেন তরুণ ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান। একারণে আত্মগোপন থেকে শুক্রবার ফিরে আসার পর পুলিশের হেফাজত থেকে তাকে তার মায়ের জিম্মায় দেয়া হয়।

    এর আগে তাকে রংপুরের আদালতে তোলা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আলোচিত এ তরুণ বক্তা। বিচারক তরুণ ইসলামি বক্তা ত্ব-হার জবানবন্দিতে সন্তুষ্ট হয়ে তার মায়ের জিম্মায় মুক্তি দেন। তার আইনজীবী জানিয়েছেন, দুই স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ থাকায় তার (ত্ব-হা) মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

    তবে আদালতে জবানবন্দি দিলেও বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি ত্ব-হা আদনান। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তিনি অসুস্থ। তাই তিনি মিডিয়ার সামনে আসছেন না। তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন সেটিও বলতে নারাজ তার পরিবার। সুস্থ হয়ে তিনি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানানো হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে।

    ত্ব-হার আইনজীবী সোলায়মান আহমেদ সিদ্দিকী বাবু জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, ‘ত্ব-হা আদালতে ১৬৪ ধারায় জানিয়েছেন, তিনি গাইবান্ধায় ছিলেন। ত্ব-হা নিজেই পারিবারিক অশান্তির কারণে নিখোঁজ ছিলেন। শুক্রবার প্রথম স্ত্রীর (আবিদা নূর) বাবার বাড়িতে আসছিলেন। ওনার সঙ্গীরাই ওনার সঙ্গে ছিলেন। যেহেতু দুই স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা ছিল। তাই তাকে তার মায়ের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।’

    এদিকে ত্ব-হা নিখোঁজ হওয়ার পর তার মায়ের সাধারণ ডায়েরির তদন্ত কর্মকর্তা মজনু মিয়া বলেছেন, ‘ত্ব-হাসহ তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে বিচারক সন্তুষ্টি জানিয়ে তাদের নিজ নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।’

    তিনি বলেন, ‘যে কারণে তারা ৮ দিন নিখোঁজ ছিলেন, সে বিষয়গুলো তারা তাদের জবানবন্দিতে বলেছেন।’

    সূত্র জানায়, ত্ব-হা জবানবন্দিতে আদালতে বলেছেন, তার ফিরে গিয়ে নিজেকে আড়াল করে রাখার পেছনে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ ছিল। তার বেশ কিছু ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা ছিল। এ কারণেই সবার থেকে একটু আলাদা থাকার জন্য সিয়ামের বাসায় আশ্রয় নেন।

    সেখানে গিয়ে ত্ব-হা অসুস্থতা বোধ করেন। ছিল করোনার উপসর্গও। ফলে তিনি একবারের জন্য ফোন খোলেননি।

    আদালতকে জানিয়েছিলেন, যারা তার সঙ্গে ছিলেন, তারা তার খুব নিকটজন এবং বিশ্বস্ত। যে চালক গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তিনিও তার ঘনিষ্ঠ। এ কারণে তারাও তার কথা শুনেছেন।

    শুক্রবার সুস্থ বোধ করলে দুপুর ১২টার দিকে রংপুরে প্রথম শ্বশুরের বাসায় এসে অবস্থান করেন এবং অন্যরা সবাই তাদের নিজ নিজ বাসায় চলে যান।

    ত্ব-হা আদালতকে জানিয়েছেন, তিনি নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর তাকে নিয়ে যে এত সব হয়েছে, তা তিনি ধারণাও করতে পারেননি।

    ফোন বন্ধ থাকায় অনলাইনে কী লেখালেখি হচ্ছে, তা তিনি ধারণা করতে পারেননি। টেলিভিশন থেকেও দূরে থাকায় বাইরের যে পরিবেশ ছিল তিনি বা তার সঙ্গীরা আঁচ করতে পারেননি।

    এ রকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন জবানবন্দিতে।

    ত্ব-হার প্রথম স্ত্রীর নাম আবিদা নুর, দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার। প্রথম স্ত্রীর ঘরে তিন বছরের একটি মেয়ে ও দেড় বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান আছে। দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন নাহার সারা মিরপুর আল ইদফান ইসলামী গার্লস মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক। তিন মাস আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল।

    গত ১০ জুন দিবাগত রাত থেকে কোনো খোঁজ মিলছিল না আবু ত্বহা, তার দুই সঙ্গী আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দিনের। সেদিন বিকাল ৪টার দিকে ওই তিনজনসহ আবু ত্ব-হা রংপুর থেকে ভাড়া করা একটি গাড়িতে ঢাকার পথে রওনা দেন। রাতে মোবাইল ফোনে সর্বশেষ কথা হলে তিনি সাভারে যাচ্ছেন বলে তার মাকে জানান।

    এরপর রাত ২টা ৩৬ মিনিটে প্রথম স্ত্রী হাবিবা নূরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় আদনানের। তিনি সাভার যাচ্ছেন বলেই জানান স্ত্রীকে। তারপর থেকেই তার ফোন বন্ধ থাকায় আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

    রংপুরের আলোচিত বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান শুক্রবার দুপুরে তার শ্বশুরের বাসায় আসেন। পরে সেখান থেকে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে রংপুর পুলিশ।

    © এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
    / month
    placeholder text

    সর্বশেষ

    রাজনীাত

    বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য বিদেশে হাসপাতাল খোজা হচ্ছে

    প্রভাতী সংবাদ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন আবেদনে সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক...

    আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

    আরো পড়ুন

    Leave a reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    spot_imgspot_img